Showing posts with label amiakhum. Show all posts
Showing posts with label amiakhum. Show all posts

Wednesday, October 19, 2016

বান্দরবন মানেই পাহাড়ি পথ ও ঝর্ণার দেশ

বান্দরবান মানেই পাহাড়ের দেশ, বান্দরবান মানেই সবুজের দেশ, বান্দরবান মানেই ঝর্ণার দেশ। আর ঝর্ণা শব্দটাই কেমন যেন রিনিঝিনি ছন্দময় আনন্দময় আবহ জাগায় শরীর ও মনে। ইচ্ছে হয় ওর পানির সৌন্দর্য্য আর শীতলতায় ধুয়ে ফেলি জীবনের সব কালিমা।
** কেওক্রাডং বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৩১৭২ ফুট। এটি বাংলাদেশের বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। এক সময় এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। যদিও আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকাহাফং বা মদক তুং। দূর থেকে কেওক্রাডংয়ের চূড়াকে ধোয়াটে মনে হয়। সাদা মেঘে ঢাকা। হওয়ায় ঝাপটায় দাঁড়ানো দায়। বৃষ্টি–বাতাস-মেঘ সময় সময় দখল নেয় চূড়ার আশপাশ।
Bandarban, keokradang, keo, kewkradang, keokaradang, কেওক্রাডং

**  বগালেক থেকে কেওক্রাডং এর পথে ঘন্টাখানেকের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেই এই চমৎকার ঝর্ণাটা পাবেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে যেটুকু ঝর্ণা দেখা যায় এটুকুই কিন্তু চিংড়ি ঝর্ণা নয়। আসল টুকু দেখতে হলে আপনাকে বিশাল বিশাল পিচ্ছিল পাথরগুলো পেরিয়ে আর একটু ভেতরে ঢুকে ডান দিকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরতে হবে। দেখবেন অসাধারণ একটি ঝর্ণা, যেন বাশ বাগানের মাথার অনেক উপর থেকে একেবেঁকে নেমে আসছে চমৎকার একটা স্রোতধারা।
** সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭০০ ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট বগা লেক। ভূ-তত্ত্ববিদগণের মতে প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রাকৃতিক ভাবে পাহাড়ের চূড়ায় এই লেক তৈরি হয়। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বগা লেক এর অবস্থান। পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে এই লেকের অবস্থান। শান্তজলের হ্রদ আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল নিয়ে নিজেও ধারন করেছে সে বর্নিল রং। পাহাড়ের চুড়ায় নীল জলের আস্তর নীলকাশের সাথে মিশে তৈরি করেছে এক প্রাকৃতিক কোলাজ। মুগ্ধ নয়তে দেখতে হয় আকাশ পাহাড় আর জলের মিতালী। প্রকৃতি এখানে ঢেলে দিয়েছে একরাশ সবুজের ছোঁয়া। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসার ক্লান্তি হারিয়ে যায় হ্রদের অতলগহ্বরে। সবকিছু মিলে এ যেন এক সুন্দরের লীলাভূমি।
** লুং ফের ভা সাইতার বান্দরবানে অবস্থিত একটি বিশাল ঝর্নার নাম। নাম যেমন কঠিন, এই ঝর্নায় যাওয়ার ট্রেইলও তেমন কঠিন। এখন পর্যন্ত হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন মানুষের পা পড়েছে এই ঝর্নায়। থিংদৌলতে পাড়া থেকে ‘তার পি’ ফলসও দেখে আসতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন অনেক বিপদজনক ট্রেইল এটা।
ট্রেইলঃ রুমা – বগালেক – কেওক্রাডং – থাইকং পাড়া – থিংদৌলতে পাড়া – সিলোপি পাড়া – লুং ফের ভা সাইতার।
লুং ফের ভা সাইতার, lung far ve saitar, saitar, lung fer va saitar, bandarban

** বান্দরবন (Bandarban) জেলার রুমা বাজার (Ruma Bazar) থেকে নদীপথে থানছি (Thanchi) যাওয়ার পথে পড়বে ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Waterfalls) । মার্মা ভাষায় একে রী স্বং স্বং বলা হয়। রুমা বাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং বান্দরবন সদর হতে ৬৬ কিঃমিঃ। সাঙ্গু নদীর পাড়ে প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে সারা বছরই এ জলপ্রপাতটির রিমঝিম শব্দে পানি পড়ে। এই জলপ্রপাতে সারা বছর পানি থাকে। তবে বর্ষার সময় ঋজুক সাঙ্গুর বুকে এত বেশি পানি ঢালে যে প্রবল স্রোতের তোড়ে জলপ্রপাতের ধারে পৌঁছতে এমনকি বড় ইঞ্জিনের নৌকাগুলোরও বেগ পেতে হয়। তখন ঋজুকের সৌন্দর্য একেবারেই অন্য রকম। তবে শুকনো সময়েও বেশ ভালো পরিমাণেই যৌবন থাকে তার।
** পাইন্দু সাইতার/ তিনাপ সাইতার বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে অবস্থিত যা এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। যেতে হলে হেঁটে পাড়ি দিতে হবে ৪০ কিলোমিটার পথ। আবার সেই পথেই ফিরে আসতে হবে। বম ভাষায় সাইতার শব্দের অর্থ ঝরনা। পরে অবশ্য গিয়ে জানা যায় ঝরনাটির নাম তিনাপ সাইতার।
পাইন্দু সাইতার, তিনাপ সাইতার, paindu saitar, tinap saitar, bandarban

বান্দরবান পৌঁছে বাস থেকে নেমে রোয়াংছড়ির বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে যেতে হবে রোয়াংছড়ি। সেখান থেকে গাইড নিয়ে ২৩ কিমি হেঁটে যেতে হবে রনিন পাড়া। রাতে রনিন পাড়ায় থেকে পরের দিন ৪/৫ ঘণ্টা হেটে (হাটার গতি ও স্ট্যামিনার উপর নির্ভর করে সময় বেশি বা সামান্য কম হতে পারে) পাইন্দু খাল ও বিশাল পাহাড় পেরিয়ে যখন চোখের সামনে অকস্মাৎ উদিত হয়, এই তিনাপ সাইতার, সকল কস্ট, বেদনা নিমেষে পরিণত হয়, অদ্ভুত এক ভালোলাগায়, অদ্ভুত এক মাদকময় নেশায়।
পাইন্দু সাইতার, তিনাপ সাইতার, paindu saitar, tinap saitar, bandarban

**বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় আশ্চর্য সুন্দর নাফাখুম জলপ্রপাতটি অবস্থিত। বান্দরবন হতে ৭৯ কিমি. দুরে অবস্থিত থানচি। এটি একটি উপজেলা। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত থানচি বাজার। এই সাঙ্গু নদী ধরে রেমাক্রীর দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে হয় নৌকা বেঁয়ে। প্রকৃতি এখানে এত সুন্দর আর নির্মল হতে পারে ভাবাই যায় না। নদীর দুপাশে উচু উচু পাহাড়। সবুজে মোড়ানো প্রতিটি পাহাড় যেন মেঘের কোলে শুয়ে আছে অবলিলায়। কোন কোন পাহাড় এতই উচু যে তার চূড়া ঢেকে আছে মেঘের আস্তরে। থানচি উপজেলার রেমাক্রি স্থানটি সাঙ্গু নদীর উজানে একটি মারমা বসতী। মারমা ভাষায় ‘খুম’ মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘন্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এই নাফাখুম জলপ্রপাতে। রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই নাফাখুম এ এসে বাঁক খেয়ে হঠাৎ করেই নেমে গেছে প্রায় ২৫-৩০ ফুট, প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার এক জলপ্রপাত! সূর্যের আলোয় যেখানে নিত্য খেলা করে বর্ণিল রংধনু! ভরা বর্ষায় রেমাক্রি খালের জলপ্রবাহ নিতান্ত কম নয়। প্রায় যেন উজানের সাঙ্গু নদীর মতই।
নাফাখুম, amiakhum, nafakhum, nafa kum, nafa, kum, khum, bandarban

** বান্দরবন যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন ? অনেক জায়গা আছে বান্দরবনে ঘুরে দেখার ! এবং একসাথে সবগুলো ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। একেক টা জায়গায় যাবার রুট একেকটা। সবগুলোর উপর ভিত্তি করে ১১টি রুট প্ল্যান করা হয়েছে।

এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন/ বান্দরবন গাইড

- বান্দরবন কোথায় কোথায় যাবেন, কিভাবে যাবেন, কত সময় নিবে, খরচ কত পড়বে !
- কার সাথে যোগাযোগ করবেন
- রিলাক্স ট্যুর এর ক্ষেত্রে কোণ স্থান গুলো টার্গেট করবেন
- এডভেঞ্চার ট্যুর, ট্র্যাকিং, হার্ড ট্র্যাকিং এর জন্য কোথায় যাবেন !
- পুরো বান্দরবনের ১১টি রুট প্ল্যান
- যাওয়ার জন্য আপনার যেসব প্রস্তুতি অবশ্যই অবশ্যই নিতে হবে
- মোবাইল নেটওয়ার্ক সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য।

Monday, December 15, 2014

প্রথম বার বান্দরবন ভ্রমনের Tour Tips


আমি প্রথম বান্দরবন যাই ২০০৭ এ। তেমন কিছুই জানতাম না। Facebook ছিল না, ToB ও ছিল না। প্রথমবার এসে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক দেখে ওয়াওওয়াও করতে থাকি। এগুলো সবই মুলত শহরেরআশেপাশে। সেবার ওইগুলো দেখেই পেটভরা গল্প নিয়ে ঘরেফিরি।



২য় বার এসে কেক্রাডং “জয়” করে বিজয়ী বেশে ঘরে ফিরি
এরপর বেশ কয়েকবার বার বান্দরবন গেছি, অনেক কিছুই দেখেছি। তবে আরও অনেককিছু এখনো দেখার বাকি রয়ে গেছে।

শুধু মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল ইত্যাদি জায়গা দেখতে চাইলে পরিকল্পনা করবেন এভাবে- ১ম দিন সকালে পৌঁছে ফ্রেশহয়ে নাশ্তা করে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির এসব দেখতেপারেন। ২য় দিন একটা জীপ ভাড়া (টাকা ২০০০/৩০০০) করে শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ঘুরে আসেন।

তবে বান্দরবন এর আসল ঐশ্বর্য দেখতে হলে আপনাকে আরও একটু ভিতরে ঢুকতেহবে। ২/৩ দিন পাহাড়ে হাঁটাহাঁটিকরতে হবে। আমি এখন সেই পথের কথা বলব।

দিন ১ –বান্দরবনশহরে পৌঁছে নাশ্তা করে একটা জীপ নিতে হবে রুমা বাজার পর্যন্ত। টাকা ২০০০/২৫০০ লাগবে। পৌছতে ঘন্টা দেড় লাগবে। সেখানে পৌঁছে গাইড নিতেহবে। গাইডের কয়েকটি সমিতি আছে। যেকোনো একটা থেকে একজনগাইড নিতে হবে। কেওক্রাডং পর্যন্ত গেলে দৈনিক ৪০০ করে মোট ১২০০টাকা লাগবে। জাদিপাই গেলে প্যাকেজ ২০০০/২৫০০ টাকার মত। তাদের দেয়া ফর্ম পুরনকরে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে সেখানে নাম এন্ট্রি করতে হবে। তারপর দ্রুত গাইডের সাথেগিয়ে জীপ ভাড়া করতে হবে বগা লেক যাওয়ার জন্য। ভাড়া ২০০০ টাকা। তবে বর্ষাকালে গাড়ি বগা লেকপর্যন্ত যায় না।

বগা লেকে ওঠার শেষ রাস্তাটুকু পার হতে অনেক কষ্ট হবে। খাড়া পাহাড়ে উঠতে হবে। আসলে এই জায়গাটুকু পারহতেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় সবার। কারন, সারারাত জার্নি করে, হইচই করে সবাই খুব ক্লান্ত থাকে। একারনেই কিছু মানুষ বগাউঠেই সিদ্ধান্ত নেয় আর আগাবে না। এটা ভুল সিদ্ধান্ত। আমি অনেক বাঘা বাঘা ট্রেকারদেরজিজ্ঞাসা করে দেখছি। ট্রিপের প্রথম দিন বগায় উঠতে সবারই অনেক কষ্ট হয়। ২য় দিন থেকে আর এত কষ্টহবে না।

বগায় পৌঁছে সিয়াম দিদি/ লারাম বা অন্য কারও কটেজেউঠতে হবে। কটেজ আগে থেকে ঠিক করে রাখা ভালো। এরপর লেকে গোছল করে বাকি দিনরেস্ট। এখন যেহেতু রুমা যেতে নৌকা লাগে না সেহেতু বেলা ১১/১২ টার মধ্যে বগায়পৌঁছে অনেকেই আরও সামনে এগিয়ে যায়। তবে যারা প্রথমবার যাচ্ছে, তাদের বগায় ১ম রাত থাকাউচিৎ। স্থানটা অনেক সুন্দর। (এখানে সেনেটারি টয়লেটআছে)।

দিন ২ (আয়েশি ভ্রমন) – ভোরে উঠে খিচুরি+ ডিম ভাজি খেয়ে ভোর ৫.৩০ টার মধ্যেই রওনা হতেহবে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। পথে চিংড়ি ঝর্না দেখতে হবে। ঝর্নার উপর পর্যন্ত গিয়েনা দেখলে কিন্তু বিরাট মিস। আগে পরে আরও কিছু ঝর্না পড়বে। মোট ৩/৩.৫ ঘণ্টা হাটার পরে পাবেন কেওক্রাডং। বাংলাদেশের “সর্বচ্চ” (সরকারি তথ্য মতে) পাহাড়।
লালার হোটেলে দুপুরেরে খাবার খেয়ে আবার ফিরতি পথে বগা।

অথবা দিন ২ (একটুখানিএডভেঞ্চার ভ্রমন) – ভোরে উঠে খিচুরি+ ডিমভাজি খেয়ে ভোর ৫.৩০ টার মধ্যেই রওনা হতে হবে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। পথে চিংড়ি ঝর্না দেখতেহবে। ঝর্নার উপর পর্যন্ত গিয়েনা দেখলে কিন্তু বিরাট মিস। আগে পরে আরও কিছু ঝর্না পড়বে। কোন ঝর্নাতেই ১০/১৫ মিনিটেরবেশি সময় দেয়া যাবে না। মোট ৩/৩.৫ ঘণ্টা পরে পাবে কেওক্রাডং। বাংলাদেশের “সর্বচ্চ” পাহাড়। চুড়ায় ওঠার আগেই লালার হোটেলে দুপুরের খাবারঅর্ডার ও রাতে থাকার বুকিং দিয়ে দিবেন।
তারপরে ১০ টার ভিতরে দুপুরের খাবার খেয়ে পাসিং পাড়া হয়ে জাদিপাইপাড়া হয়ে জাদিপাই ঝর্না। কেওক্রাডং থেকে জাদিপাই যেতে কোন পাহাড়ে ওঠানাই, শুধু নামা আর নামা। ঘণ্টা ২/২.৩০ লাগবে পৌছাতে। শেষ ২০০ ফিট সাবধানে নামতেহবে। ৫০ ফিট পাটের মোটা দড়ি/কাছিসাথে করে নিয়ে গেলে এখানটায় নামতে সুবিধা হবে। লোকে বলে জাদিপাইনাকি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্না। কথাটির সাথে আমিও দ্বিমত নই। দেখলেআপনিও বোধ করি দ্বিমত করবেন না।
এখানে ঘণ্টা খানেক থেকে আবার ফিরতে হবে। আমরা ঐদিনই বগায় ফিরেএসেছিলাম। তবে সেটা বেশি কষ্টকর হতে পারে। আপনারা কেওক্রাডং এসেলালার হোটেলে ঐ রাত থাকবেন। (এখানে সেনেটারি টয়লেট আছে)।

দিন ৩ –অবশ্যইসূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে উঠবেন। কেওক্রাডং এর চুড়া থেকে সূর্যোদয় অনেক বেশি সুন্দর। নাশ্তা করে ফিরবেন বগা। সেখান থেকে জীপ স্ট্যান্ডেগিয়ে আগেই ফোনে ঠিক করে রাখা জীপে করে রুমায় ফিরবেন।

১২ টার মধ্যে রুমায় পৌঁছে দুপুরের খাবার খেয়ে ট্রলার নিবেন রিঝুকফলস পর্যন্ত। ৮০০/১০০০ টাকা নিবে। ৩০/৪০ মিনিট লাগে যেতে। রিঝুক দেখে রুমা ফিরেআবার জীপে করে বান্দরবন।

বগাথেকে ঝিরিপথে হেঁটেও রুমা ফেরা যায়। ৬/৭ ঘণ্টা লাগে। পথটা অসাধারন সুন্দর।
রুমা থেকে বান্দরবন ট্রলারে করেও ফেরা যায়। ৩/৪ ঘণ্টা লাগবে। ৪০০০/৪৫০০ টাকা লাগতেপারে। ফিরতি পথে ৪০/৫০ কিমিসাঙ্গু দেখতে অনেক ভালো লাগবে।

এই পরিকল্পনায় ৩ দিন ঘুরে আসলে আর শৈলপ্রপাত, নীলগিরি, চিম্বুক, মেঘলা ইত্যাদি জায়গায়যাওয়া অর্থহীন। কেওক্রাডং, জাদিপাইর কাছে এগুলোকেশিশুপারক মনে হবে।

এই ৩ দিনের টুরে আরও কিছু মশলা দেয়া যায়, তবে প্রথমবার হিসেবে সেটাবাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।

অবশ্য পালনীয় কর্তব্য –

১) ভালো, মজবুত ব্যকপ্যাক নিবেন। হাতব্যাগ/ লাগেজ এসব চলবেনা, চলবে না¸ চলবে না।
২) পুরো টুরে নিজের ব্যাগ নিজের কাধে রাখতে হবে। পাহাড়ে ওঠার সময় মেকাপবক্স/ পারফিউম ইত্যাদি ফেলে দিতে হবে ওজন কমাতে। অতএব, কাপড় মাত্র ২ সেট নিবেন। অন্যান্য জিনিস যাই নিবেনভেবে নিবেন। অযথা ব্যাগ ভারী করলে পরে কাঁদতে হবে।
৩) ভালো, মজবুত স্যান্ডেল নিবেন। মাটিতে ভালো গ্রীপ করে, পিছলে যায় না এমন স্যান্ডেলনিবেন।
৪) সঙ্গে সবসময় আধা/এক লিটার পানি, সামান্য কিছু হাল্কা খাবাররাখবেন।
৫) কলার পটাশিয়াম পেশির জন্য উপকারী। পাহাড়ে উঠলে পেশির উপরঅনেক চাপ পরে। অতএব, বান্দরবন গেলে বান্দরের মত কলা খাবেন।
৬) বেশি স্যালাইন খেলে রক্তচাপ বাড়ে, ঘাম বাড়ে ফলে আরও বেশিপানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অতএব, সারাদিন চলার পথে বেশি স্যালাইন খাবেন না। পানি খাবেন। অনেক তৃষ্ণা পেলেও একবারেবেশি পানি খাবেন না। হটাত পেট ভারী হয়ে গেলে হাঁটতে পারবেন না।
৭) মশা প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই Ododmos লোশন নিবেন।
৮) হাটার সময় ফুটবলারদের মত আংলেট, নী-ক্যাপ পড়বেন।
৯) টর্চ নিবেন। কম কম জ্বালাবেন। চার্জ শেষ হলে চার্জ দেয়াঝামেলা।
১০) প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। অবশ্যই, অবশ্যই। যত দেরিতে রওনা হবেন, রোদে তত বেশি কষ্ট হবে। অলস কেউ থাকলে তাঁকে কক্সবাজারপাঠিয়ে দিন। বান্দরবন তার জন্য না।
১১) জোঁকের জন্য সবার সঙ্গে সামান্য লবন রাখবেন। জোঁক লাগলেই অযথা চেঁচামেচিনা করে আপনার পাশে জনকে লবন দিতে বলুন। জোঁক মরে যাবে।
১২) দল ১০ জনের হলে ৫ জনের ২ টা দলে হাঁটবেন। কেও যেন দলছাড়া না হয়েযায়।
১৩) ক্যাপ পড়বেন সবাই।
১৪) ছাতা/ রেইনকোট নিবেন।
১৫) ব্যাকপ্যাক কাভার নিবেন সবাই। বা সকল জিনিস বড় পলিথিনেভরে তারপর ব্যাকপ্যাকে ভরবেন।
১৬) সবাই ১টা করে পিঠে ঝুলানর মত দড়ি দেয়া কাপড়েরএক্সট্রা  ব্যাগ নিবেন ।
১৭) জ্বর, পেই কিলার,আমাশা, গ্যাস্ট্রিক, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেটইত্যাদি নিবেন।
  
 এবং দয়া করে

১৮) বিস্কুট/ চিপস/ চানাচুর ইত্যাদির প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতল, অপচনশিল বস্তু ফেলবেন না যেখানে সেখানে। যেসব পাড়ায়ডাস্টবিন আছে সেখানে ফেলুন। না পারলেপুড়িয়ে ফেলুন।

________________________________________________________________

Info from "Proactive Bappy"

যারা বান্দরবান যেতে চান তাদের জন্য কিছু জরুরী ফোন নাম্বার

চান্দের গাড়ীঃ জিয়া ড্রাইভারঃ ০১৮১২৫৭২৬৯১ ( ৪/৫ হাজার টাকা লাগে সারাদিন )।
হোটেল সাঙ্গুঃ ০১৫৫৬৫২৯৫৮৭ (৫০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতি রাত।দরাদরি করে নিবেন। হোটেলের মান খুব ভালো ) ।
হোটেল নিলগিরিঃ ০১৫৫৮৪২১৩১৯ ( ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি রাত, হোটেলের মান মোটামোটি ,ভাই ব্রাদার মিলে থাকতে পারবেন আর কি!)
যদি ৫০-৬০ জন গ্রুপ হয়ে যান তাহলে খাবার এর ব্যপারে যোগাযোগ করতে পারেন রুপসি বাংলা রেস্তোরায় ; ০১৮৪৯৮৮১৫৪০ (খাবারের মান ভালো)

বান্দরবন সিটিতে কোথায় থাকবেন তার হোটেল লিস্টি দিয়ে দিলাম কিছু-
হোটেল ফোর স্টার : (বান্দরবান সদর)
সিঙ্গেল ৩০০ টাকা, ডাবল- ৬০০, ট্রিপল ৯০০ টাকা, এসি ডাবল- ১২০০ টাকা।, এসি ট্রিপল ১৫০০ টাকা।
Phone: 0361-63566, 0361-62466, 01813278731, 01553421089

হোটেল থ্রী স্টার : এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ী এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়া হয়। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। প্রতি নন এসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন: থ্রী স্টার এবং ফোর ষ্টার হোটেল মালিক একজন, মানিক চৌধুরী-০১৫৫৩৪২১০৮৯।

হোটেল প্লাজা বান্দরবান: (সদর) Hotel Plaza Bandarban
Single 400tk, Double 850tk, AC 1200tk.
Booking Phone: 0361-63252

হোটেল গ্রিন হিলঃ (বান্দরবান সদর) Hotel Green Hill
Single 200tk, Double 350tk, Triple 500tk
Phone: 0361-62514, Cell: 01820400877

হোটেল হিল বার্ড (বান্দরবান সদর) Hotel Hill Bird
Single 250tk, Double 400tk, Triple 550tk
Phone: 0361-62441, Cell: 01823346382

হোটেল পূরবী (বান্দরবান সদর) Hotel Purobi
AC Deluxe 1400tk, AC Room 1200tk, General Single 259tk,
General Double 460tk, General Triple 600tk, General Couple 400tk
Phone: 0361-62531, Cell: 0155 6742434

Wednesday, December 3, 2014

নাফাখুম-আমিয়াখুম-সাতভাইখুম ভায়া তিন্দু রেমাক্রি

অনি তুমি কি শুনাইলা?
নাহ কথাটা বিশ্বাস হচ্ছে না, নিজের চোখে না দেখলে কিভাবে বিশ্বাস হবে বল?
বৃষ্টির স্মৃতি মনে পড়ে বার বার অনি আমাকে নাফাখুমের কথা স্মরণ করেছে। আসলেই বিশ্বাস হবে কিভাবে?
নাফাখুম থেকে রেমাক্রি আসার পথে সেই লেভেলের বৃষ্টি, যেই সেই বৃষ্টি না, বৃষ্টির ফোটাগুলো যেন সুইয়ের খোঁচা মনে হচ্ছে। গায়ে পড়ার সাথে সাথে মনে হচ্ছে কেউ সুইয়ের খোঁচা দিচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হবার সাথে সাথে পাহাড়ীদের মাঝে দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে যায়, জেনে রাখা ভালো বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ী ঢল যেভাবে নামবে সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। চোখের সামনে যখন দেখবেন পাহাড়ী উপড়ে পড়া গাছ পাক খেতে খেতে ঘূর্নি আকারে আপনার সামনে আসছে কি মনে হয়? এক মিনিট চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো? আর সময়টা হল এপ্রিলের শেষের দিকে ২০১১ সালে। ভরা বর্ষা।
নাফাখুম নিয়ে জানার ইচ্ছে?
নাফাখুম জলপ্রপাত (বাংলাদেশের নায়াগ্রা) নামকরণ কেন?
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি স্থানটি সাঙ্গু নদীর উজানে একটি মারমা বসতী। মারমা ভাষায় ‘খুম’ মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘন্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় আশ্চর্য সুন্দর সেই জলপ্রপাতে, যার নাম ‘নাফাখুম’।
রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই নাফাখুম, নাফাখুমে এসে বাঁক খেয়ে নেমে গেছে প্রায় ২৫-৩০ ফুট, প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার এক জলপ্রপাত! সূর্যের আলোয় যেখানে নিত্য খেলা করে বর্ণিল রংধনু! ভরা বর্ষায় রেমাক্রি খালের জলপ্রবাহ নিতান্ত কম নয়। প্রায় যেন উজানের সাঙ্গু নদীর মতই।
পানি প্রবাহের ভলিউমের দিক থেকে নাফাখুম-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত।

Nafa-khum (Bengali: নাফাখুম) is a waterfall in Bangladesh on the Sangu River. It is among the largest waterfalls in the country by volume of water falling. The wild hilly river Sangu suddenly falls down here about 25–30 feet.
The falls are located in a remote area three hours’ walking distance from Remakri, Thanchi Upazila, Bandarban District. Remakri is located three hours by boat on the Sangu River from Tindu, which is itself three hours by boat from Thanchi. Nafa-khum is not very popular as a tourist destination.
Travelers should reach to Bandarban first, if they are interested to have a tour to this Nafakhum waterfall. There are many bus services to travel to Bandarban from Dhaka City. It will cost around 450/= Taka for a Non-Ac bus.
The word “Khum” in Marma language means “Waterfall”. A special type of flying fish, whose local name is nating, is found at the bottom in a small cave as they swim against the stream but cannot jump over the height of the fall.

নাফাখুমের পড়ন্ত জলের ধারার নীচে গিয়ে বসার সুযোগ রয়েছে। আমার-আপনার জন্য বিষয়টা বেশ রিস্কি হলেও পাহাড়ীরা জলপ্রপাতের পিছনে বসে অনায়াসে মাছ শিকার করে। এক ধরনের উড়ুক্কু মাছ (স্থানীয় ভাষায় মাছটির নাম নাতিং মাছ) উজান ঠেলে এসে নাফাখুমে বাধাপ্রাপ্ত হয়, লাফ দিয়ে এই প্রপাত-টা আর ক্রস করতে পারেনা, গিয়ে পড়ে জলপ্রপাতের ভিতরে ছোট্ট একটা গুহায়। অনায়াসে সেখান থেকে মাছ সংগ্রহ করে স্থানীয় পাহাড়ীরা।
যেই দেশে এত এত “খুম” আছে, তা কয়জনই বা জানে? মুসা ইব্রাহিম নাফাখুম গিয়ে জানান দিয়েছে এমন একটা যায়গা আছে যে পাহাড়ের মাঝে ঝরণার পানি জমে যেটাকে খুম বলে এলাকাবাসী। এর পর থেকে প্রথম আলো প্রথম একটা বর্ননা দেখেই বিডি রেঞ্জারসের ওয়াইল্ড ট্যুর এর পরিকল্পনা। বিডি রেঞ্জারস এর মেম্বার হিসাবে খুবই ভাগ্যবান বলতে হবে আমাদের সবার- প্রথমকার সাত/আট নাম্বার গ্রুপ আমরাই ছিলাম যারা নাফাখুম দেখেছি নিজের চোখে।

খুম কি? নাম কেন খুম? জানার ইচ্ছে?
মারমা ভাষায় খুম মানে হল জলপ্রপাত। পাহাড়ী নদী সাঙ্গু তার বয়ে চলার পথে অজস্রে স্থানে ছোট ছোট জলপ্রাপাতের সৃষ্টি করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রেমাক্রিখুম এবং নাফাখুম আর এখন আমিয়াখুম সাতভাইখুম আছে। নাম না জানা আর কত খুম আছে সেটা জানার আর দেখার ভাগ্য আমাদের হবে কিনা জানি না।
রেমাক্রি খুম দেখতে পারেন-

আমিয়াখুম দেখতে পারেন এখানে-




আর সাতভাইখুম দেখতে পারেন এখানে-





Route for Amiakhum-Sat Bhai Khum Waterfalls:

Thanchi> Poddo Mukh > Bollong Para > Sat Bhai Kum > Nakiong Mukh > Amiakhum Waterfall
বাংলাদেশের কিছুই দেখা হয়নি এখনো বলব আমি আর আমরা বিডি রেঞ্জারস মেম্বাররা, তারপরও এখনো অনেক কিছু দেখার বাকি। বারবার সেই বান্দরবন আমাদের টানে, আমাকে টানে। না গিয়ে থাকতে পারি না। আবার যাবো। বান্দরবান বলতে অনেকেই মনে করেন, দু-চারবার সেখানে গেলেই সব স্পট ঘুরে শেষ করা সম্ভব। ধারণাটাই সম্পূর্ণ ভুল। বান্দরবান এমন একটি জেলা- যার পরতে পরতে ধারণ করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে কম করে হলেও শতবার।

এবার ইচ্ছে আমিয়াখুমের কাছে যাওয়া। জানি না বিডি রেঞ্জারস সবাই রাজি থাকলে আল্টিমেট ট্যুর হবে হয়ত, সাথে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাবো সবাই আশা করি। আগের বার “সাদ” আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে, ও ভালো সাতারু তারপরও নাফাখুমের স্রোতে প্রায় ১মিনিট ও ডুবে ছিল, সবার আন্তরিক চেষ্টায় আর একমাত্র আল্লাহর রহমত থাকায় ও আজ আমাদের মাঝে। না হলে বাকিটা ভাবতে চাই না। আর সেই এক্সট্রিম মোমেন্টটা ক্যাপচার করেছে আমাদের সজল।


আরো অনেক কথা শেয়ার করার বাকি নাফাখুম নিয়ে, আমি তো জাস্ট অনির কথা গুলোকে লিখায় রুপ দিলাম। মজার মজার কাহিনী শেয়ার হবে ইনশাল্লাহ। নাফাখুম নিয়ে লিখতে গেলে লিখা শেষ হবে না আমাদের কারোই। আরো কিছু মজার মেমরি মনে আসলে আপনাদের জানাবো আশা করি।


এখানে আরো বলে রাখি আপনাকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে আমাদের সজিবের ২টা মোবাইল যেখানে নোকিয়া এক্স ৬, সাথে ২০,০০০ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা আসার জন্যে হাতে টাকা পয়সা না থাকায় কোন মতে চিপা চাপা থেকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বান্দরবন সিটিতে আসতে পেরেছিলাম, পরে কাহিনী তো ইতিহাস। অনির বড় ভাই-এর সহযোগিতায় ঢাকা আসতে পেরেছিলাম আমরা। ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না, এরকম ভাই সবার থাকুক, আমাদের কামে লাগবে।

গাইডের ব্যাপারে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে প্রথম গাইড মাল/মদ খায় কিনা? আমাদের ভাগ্যটাই খারাপ ছিল মনথু নামের যে গাইড ছিল আমাদের বেটা বাংলা মদ খাইয়া পুরাই মাতলামি করছে, সজিবের মতে টাকা এই শালায়ই মারছে!!
আবার নাফাখুম দেখুন-



নাফাখুম যাবার পথে পথে-






নিচে রুট প্ল্যান দিলাম ডিটেইল-কাজে লাগতে পারে।
Day 00 :
At 9.30 PM start our journey to Bandarban from Shamoly Bus Counter, Arambagh (Non AC Bus)
Day 01 :
Breakfast (7AM -7:30AM)
3.5 hours Jeep drive: Bandarban to Thanchi 7.30AM
Lunch 11.30AM
Reporting at BDR Camp /Submit Name List at 12.30PM
Journey by boat Thanchi to Remakri
Dinner
Night stay at Remarki


Day 02 : 

Breakfast 6.00 AM
Remakri to Nafakhum: 2 to 4 Hours Hiking
Lunch at Remakri 2.30PM
Dinner 7PM
Night stay at Remarki
Day 03 :
Breakfast at 6.00AM
Back to Thanchi by boat
Thanchi – Nilgiri-Chimbuk-Shoilopropat-Bandarban by Jeep
Lunch at Hotel
After Lunch visit Nilachol/Boating to Sangu River
Dinner
At 9.00PM leave Bandarban (Shamoly Poribahan Non A/C Bus)
Note : Mineral water, first aid, rikshaw, etc fare are not included.
Requesting you to bring life jacket for safety purpose. Don’t forget to bring first Aid medicine and others kits. Torch Light is a must.
Things to carry : 
Rubber Sandal, Snickers/Walking shoe, Cap, Towel/Gamcha, Shorts, T-shirts, Sun protection cream, Small knife, Candle, Torch light, Necessary Medicine, all in 1 Back Pack which you need to carry by yourself.
PLEASE KEEP IN MIND THAT THIS TRIP CONSIDERED AS ADVENTURE TRIP AND SCHEDULE MAY NOT MATCH EXACTLY WITH THE ITINERARY DUE TO WEATHER AND PRESENT SITUATION OF THE AREA.
টাকা পয়সা নিয়া হের-ফের আছে। সেটা নিয়ে আমি আগেই বলেছি। গাইডরা এখন একটা প্যাকেজ চালু করেছে, সে প্যাকেজ অনুযায়ী শুধু থানচি থেকে সব ঘুরে আবার থানচিতে ফেরত আসতে আপনার মোট খরচ হবে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। আমরা ৩৫০০ টাকায় ঢাকা-নাফাখুম-ঢাকা ট্রিপ মেরে দিসি।
যাতায়াতঃ
বান্দরবান শহর থেকে থানচি উপজেলা সদরের দূরত্ব ৮২ কিঃমিঃ। রিজার্ভ চাঁদের গাড়ীতে বান্দরবান থেকে থানচি যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা, ভাড়া নেবে ৪ হাজার টাকা। থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকায় যাওয়া-আসা, ভাড়া চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বর্ষায় ইঞ্জিনবোটে থানচি থেকে তিন্দু যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। তিন্দু থেকে রেমাক্রি যেতে লাগবে আরও আড়াই ঘন্টা। এই পাঁচ ঘন্টার নৌ-পথে আপনি উজান ঠেলে উপরের দিকে উঠতে থাকবেন। শীতের সময় ইঞ্জিন বোট চলার মত নদীতে যথেষ্ট গভীরতা থাকেনা। তখন ঠ্যালা নৌকাই একমাত্র বাহন। বর্ষা মৌসুমে তিন দিনের জন্য ইঞ্জিনবোটের ভাড়া পড়বে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর শীত মৌসুমে ঠ্যালা-নৌকার ভাড়া পড়বে প্রতি দিনের জন্য ১০০০ টাকা।
যাবার পথে তিন্দু পড়বে, তিন্দু সম্পর্কে পড়ুন ও দেখুন এখানে-
তিন্দু ইউনিয়ন, বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। প্রাকৃতিক আকর্ষণের কারণে এ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকদের কাছে অঞ্চলটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। তিন্দু ইউনিয়নের আয়তন ১,১২,৬৪০ একর (৪৫৫.৮৪ বর্গ কিলোমিটার)।
সাঙ্গু নদী এই উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলেছে। তিন্দু ইউনিয়নের উত্তরে থানচি ইউনিয়ন, দক্ষিণে রেমকরি ইউনিয়ন (রেমাক্রি), পূর্বে চীন (মায়ানমার) সীমান্ত।


বাংলাদেশের ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারি অনুযায়ী তিন্দু ইউনিয়নের জনসংখ্যা ২০৪৮ জন। সাক্ষরতার হার ৪.৬%।
তিন্দু মাতৃতান্ত্রিক মারমা ও মুরংদের আবাসস্থল। এরপর আদমশুমারী এই এলাকায় আর হয়নি।
প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, তিল, হলুদ, আদা এবং শাকসবজি। প্রধান ফল কাঁঠাল, কলা। তিন্দুতে রয়েছে একটি বাজার এবং একটি বৌদ্ধ মন্দির।
মোবাইল নেটওয়ার্কঃ
থানচি, তিন্দু দুই জায়গাতেই মোবাইল নেটওয়ার্ক (জিপি, রবি, টেলিটক, সিটিসেল) আছে। নিজের মোবাইল সাথে না নেয়াই ভালো। বারতি বোঝা বলে মনে হবে। দোকান থেকেই প্রয়োজনীয় কথা সেরে নিতে পারবেন। নিলেও নোকিয়া জাভা সেট নিয়ে যাবেন, চার্জ অনেক দিন থাকে। থানচি পর্যন্ত আপনার টেলিটক/রবি/জিপি মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাবেন। তিন্দু গিয়ে আপনার মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকলেও আপনি একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবেন না। মারমাদের দোকান থেকে বাঁশের উপর এ্যন্টেনা লাগানো সেট থেকে চাইলে বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু রেমাক্রি পৌঁছালে আপনি একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।
থাকাঃ
থাকার জন্য যেতে হবে তিন্দু, রেমাক্রি। মারমাদের বাঁশ-কাঠের বাড়ীতে অনায়াসে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে আপনাদের। মারমাদের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতেই খুব অল্প টাকায় এমন থাকা-খাওয়ার সুবিধে রয়েছে। তিনবেলা খাওয়ার খরচ পরবে জনপ্রতি ২০০ টাকা, আর থাকা ফ্রি। তবে যে বাড়ীতে ফ্রি থাকবেন। খেতে হবে তাঁর দাওয়ায় বসেই।
আর্মি বা বিডিআর-এর রেফারেন্স থাকলে তিন্দু ও রেমাক্রিতে বিডিআর-এর আতিথেয়তা পেতে কষ্ট হবেনা। আর বিডিআর-এর আতিথেয়তা পেলে থাকা-খাওয়ার সম্ভাব্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা-টা সহজেই মিলে যাবে। সাথে উপরি পাবেন নিশ্চিন্ত নিরাপত্তা। যদিও নিরাপত্তা জনিত কোন অসুবিধা আমার চোখে পড়েনি।
“নিল ভোমরা” তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে অনেক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যে।
‘অনেকবার পাহাড়ে উঠতে গিয়ে মাঝপথে তুষার ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করেছি এবারই শেষ ,পাহাড়ে উঠা ছেড়ে দেব । কিন্তু তারপর বাড়িতে ফিরে বিছানায় যখন শুয়েছি আমার জানালায় আবার ভেসে উঠেছে দূরের হিমালয়ের ঐ চূড়া । মনে হয়েছে চূড়া যেমন আমায় ডাকছে । আমার মন আনচান করে উঠেছে । আবার দড়িদড়া নিয়ে ছুটে গেছি ঝড়ের মধ্যে ।
-এভারেষ্ট বিজয়ের আগে একদিন এমনই বলেছিলেন শেরপা তেনজিং ।
নাফাখুম থেকে ফেরার পথের সাথে কি কিছু মিল পাওয়া যায়? দেখে আসার অনুরোধ রইল।
আরো বিস্তারিত কিছু জানতে আমার ট্রাভেল ফ্যান পেইজ দেখতে পারেন- Rono’s Traveling