Showing posts with label keokradang. Show all posts
Showing posts with label keokradang. Show all posts

Wednesday, October 19, 2016

বান্দরবন মানেই পাহাড়ি পথ ও ঝর্ণার দেশ

বান্দরবান মানেই পাহাড়ের দেশ, বান্দরবান মানেই সবুজের দেশ, বান্দরবান মানেই ঝর্ণার দেশ। আর ঝর্ণা শব্দটাই কেমন যেন রিনিঝিনি ছন্দময় আনন্দময় আবহ জাগায় শরীর ও মনে। ইচ্ছে হয় ওর পানির সৌন্দর্য্য আর শীতলতায় ধুয়ে ফেলি জীবনের সব কালিমা।
** কেওক্রাডং বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৩১৭২ ফুট। এটি বাংলাদেশের বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। এক সময় এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। যদিও আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকাহাফং বা মদক তুং। দূর থেকে কেওক্রাডংয়ের চূড়াকে ধোয়াটে মনে হয়। সাদা মেঘে ঢাকা। হওয়ায় ঝাপটায় দাঁড়ানো দায়। বৃষ্টি–বাতাস-মেঘ সময় সময় দখল নেয় চূড়ার আশপাশ।
Bandarban, keokradang, keo, kewkradang, keokaradang, কেওক্রাডং

**  বগালেক থেকে কেওক্রাডং এর পথে ঘন্টাখানেকের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেই এই চমৎকার ঝর্ণাটা পাবেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে যেটুকু ঝর্ণা দেখা যায় এটুকুই কিন্তু চিংড়ি ঝর্ণা নয়। আসল টুকু দেখতে হলে আপনাকে বিশাল বিশাল পিচ্ছিল পাথরগুলো পেরিয়ে আর একটু ভেতরে ঢুকে ডান দিকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরতে হবে। দেখবেন অসাধারণ একটি ঝর্ণা, যেন বাশ বাগানের মাথার অনেক উপর থেকে একেবেঁকে নেমে আসছে চমৎকার একটা স্রোতধারা।
** সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭০০ ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট বগা লেক। ভূ-তত্ত্ববিদগণের মতে প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রাকৃতিক ভাবে পাহাড়ের চূড়ায় এই লেক তৈরি হয়। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বগা লেক এর অবস্থান। পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে এই লেকের অবস্থান। শান্তজলের হ্রদ আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল নিয়ে নিজেও ধারন করেছে সে বর্নিল রং। পাহাড়ের চুড়ায় নীল জলের আস্তর নীলকাশের সাথে মিশে তৈরি করেছে এক প্রাকৃতিক কোলাজ। মুগ্ধ নয়তে দেখতে হয় আকাশ পাহাড় আর জলের মিতালী। প্রকৃতি এখানে ঢেলে দিয়েছে একরাশ সবুজের ছোঁয়া। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসার ক্লান্তি হারিয়ে যায় হ্রদের অতলগহ্বরে। সবকিছু মিলে এ যেন এক সুন্দরের লীলাভূমি।
** লুং ফের ভা সাইতার বান্দরবানে অবস্থিত একটি বিশাল ঝর্নার নাম। নাম যেমন কঠিন, এই ঝর্নায় যাওয়ার ট্রেইলও তেমন কঠিন। এখন পর্যন্ত হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন মানুষের পা পড়েছে এই ঝর্নায়। থিংদৌলতে পাড়া থেকে ‘তার পি’ ফলসও দেখে আসতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন অনেক বিপদজনক ট্রেইল এটা।
ট্রেইলঃ রুমা – বগালেক – কেওক্রাডং – থাইকং পাড়া – থিংদৌলতে পাড়া – সিলোপি পাড়া – লুং ফের ভা সাইতার।
লুং ফের ভা সাইতার, lung far ve saitar, saitar, lung fer va saitar, bandarban

** বান্দরবন (Bandarban) জেলার রুমা বাজার (Ruma Bazar) থেকে নদীপথে থানছি (Thanchi) যাওয়ার পথে পড়বে ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Waterfalls) । মার্মা ভাষায় একে রী স্বং স্বং বলা হয়। রুমা বাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং বান্দরবন সদর হতে ৬৬ কিঃমিঃ। সাঙ্গু নদীর পাড়ে প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে সারা বছরই এ জলপ্রপাতটির রিমঝিম শব্দে পানি পড়ে। এই জলপ্রপাতে সারা বছর পানি থাকে। তবে বর্ষার সময় ঋজুক সাঙ্গুর বুকে এত বেশি পানি ঢালে যে প্রবল স্রোতের তোড়ে জলপ্রপাতের ধারে পৌঁছতে এমনকি বড় ইঞ্জিনের নৌকাগুলোরও বেগ পেতে হয়। তখন ঋজুকের সৌন্দর্য একেবারেই অন্য রকম। তবে শুকনো সময়েও বেশ ভালো পরিমাণেই যৌবন থাকে তার।
** পাইন্দু সাইতার/ তিনাপ সাইতার বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে অবস্থিত যা এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। যেতে হলে হেঁটে পাড়ি দিতে হবে ৪০ কিলোমিটার পথ। আবার সেই পথেই ফিরে আসতে হবে। বম ভাষায় সাইতার শব্দের অর্থ ঝরনা। পরে অবশ্য গিয়ে জানা যায় ঝরনাটির নাম তিনাপ সাইতার।
পাইন্দু সাইতার, তিনাপ সাইতার, paindu saitar, tinap saitar, bandarban

বান্দরবান পৌঁছে বাস থেকে নেমে রোয়াংছড়ির বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে যেতে হবে রোয়াংছড়ি। সেখান থেকে গাইড নিয়ে ২৩ কিমি হেঁটে যেতে হবে রনিন পাড়া। রাতে রনিন পাড়ায় থেকে পরের দিন ৪/৫ ঘণ্টা হেটে (হাটার গতি ও স্ট্যামিনার উপর নির্ভর করে সময় বেশি বা সামান্য কম হতে পারে) পাইন্দু খাল ও বিশাল পাহাড় পেরিয়ে যখন চোখের সামনে অকস্মাৎ উদিত হয়, এই তিনাপ সাইতার, সকল কস্ট, বেদনা নিমেষে পরিণত হয়, অদ্ভুত এক ভালোলাগায়, অদ্ভুত এক মাদকময় নেশায়।
পাইন্দু সাইতার, তিনাপ সাইতার, paindu saitar, tinap saitar, bandarban

**বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় আশ্চর্য সুন্দর নাফাখুম জলপ্রপাতটি অবস্থিত। বান্দরবন হতে ৭৯ কিমি. দুরে অবস্থিত থানচি। এটি একটি উপজেলা। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত থানচি বাজার। এই সাঙ্গু নদী ধরে রেমাক্রীর দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে হয় নৌকা বেঁয়ে। প্রকৃতি এখানে এত সুন্দর আর নির্মল হতে পারে ভাবাই যায় না। নদীর দুপাশে উচু উচু পাহাড়। সবুজে মোড়ানো প্রতিটি পাহাড় যেন মেঘের কোলে শুয়ে আছে অবলিলায়। কোন কোন পাহাড় এতই উচু যে তার চূড়া ঢেকে আছে মেঘের আস্তরে। থানচি উপজেলার রেমাক্রি স্থানটি সাঙ্গু নদীর উজানে একটি মারমা বসতী। মারমা ভাষায় ‘খুম’ মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘন্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এই নাফাখুম জলপ্রপাতে। রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই নাফাখুম এ এসে বাঁক খেয়ে হঠাৎ করেই নেমে গেছে প্রায় ২৫-৩০ ফুট, প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার এক জলপ্রপাত! সূর্যের আলোয় যেখানে নিত্য খেলা করে বর্ণিল রংধনু! ভরা বর্ষায় রেমাক্রি খালের জলপ্রবাহ নিতান্ত কম নয়। প্রায় যেন উজানের সাঙ্গু নদীর মতই।
নাফাখুম, amiakhum, nafakhum, nafa kum, nafa, kum, khum, bandarban

** বান্দরবন যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন ? অনেক জায়গা আছে বান্দরবনে ঘুরে দেখার ! এবং একসাথে সবগুলো ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। একেক টা জায়গায় যাবার রুট একেকটা। সবগুলোর উপর ভিত্তি করে ১১টি রুট প্ল্যান করা হয়েছে।

এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন/ বান্দরবন গাইড

- বান্দরবন কোথায় কোথায় যাবেন, কিভাবে যাবেন, কত সময় নিবে, খরচ কত পড়বে !
- কার সাথে যোগাযোগ করবেন
- রিলাক্স ট্যুর এর ক্ষেত্রে কোণ স্থান গুলো টার্গেট করবেন
- এডভেঞ্চার ট্যুর, ট্র্যাকিং, হার্ড ট্র্যাকিং এর জন্য কোথায় যাবেন !
- পুরো বান্দরবনের ১১টি রুট প্ল্যান
- যাওয়ার জন্য আপনার যেসব প্রস্তুতি অবশ্যই অবশ্যই নিতে হবে
- মোবাইল নেটওয়ার্ক সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য।

Monday, June 15, 2015

আমার ঘুরাঘুরির ছবি ব্লগ

বগালেক
দার্জিলিং পাড়া, বান্দরবন
হাট হাজারি, চট্রগ্রাম
জাদিপাই, বান্দরবন
জল ও জংঙ্গলের কাব্য, পুবাইল
জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটি
কাপ্তাই, চট্রগ্রাম
কেওক্রাডাং
মানিকগঞ্জ
নীলগিরি
ভাটিয়ারি, চট্রগ্রাম
রাঙ্গামাটি রিসোর্ট, গাজিপুর
রাউজান, চট্রগ্রাম
রাতারগুল
সাজেক
সাজেক
বিছানাকান্দি
জাফলং, সিলেট
টাংগাইল, সিলিমপুর
ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্ট 

Sunday, June 14, 2015

bdnews24-এ আমার কিছু ব্লগনামা

ওয়াইল্ড টুর এট কেওক্রাডাং


জানুয়ারি ৫, ২০১৩, ১ম দিনঃ
কেওক্রাডাং (Keokradong) যাওয়ার পথ এই থেকে শুরু করলাম হাটা, প্রথমেই পড়ল  বগা লেক, বগা লেকের কথা আর কি বলবো? বগা লেক যে উঠতে পারবে সেই কেওক্রাডাং জয় করতে পারবে, ৬০-৭৫ ডিগ্রিতে পাহাড় বাইতে হবে হেটে। এটাই অনেকের জন্য এক্সাম ঢাকা আবার ফেরত আসবে কিনা!! বাকি পথের কথা না হয় নাই বললাম, নিজের চোখে দেখে আসার অনুরোধ করলাম।

Thanks bdnews24.com

ফেসবুক লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/bdnews24/posts/10154855957025601

ব্লগ লিঙ্কঃ http://blog.bdnews24.com/safatrono/160590


নাফাখুম-অমিয়াখুম-সাত ভাই খুম ভায়া তিন্দু-রেমাক্রি


অনি তুমি কি শুনাইলা?
নাহ কথাটা বিশ্বাস হচ্ছে না, নিজের চোখে না দেখলে কিভাবে বিশ্বাস হবে বল?
বৃষ্টির স্মৃতি মনে পড়ে বার বার অনি আমাকে নাফাখুমের কথা স্মরণ করেছে। আসলেই বিশ্বাস হবে কিভাবে?
নাফাখুম থেকে রেমাক্রি আসার পথে সেই লেভেলের বৃষ্টি, যেই সেই বৃষ্টি না, বৃষ্টির ফোটাগুলো যেন সুইয়ের খোঁচা মনে হচ্ছে। গায়ে পড়ার সাথে সাথে মনে হচ্ছে কেউ সুইয়ের খোঁচা দিচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হবার সাথে সাথে পাহাড়ীদের মাঝে দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে যায়, জেনে রাখা ভালো বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ী ঢল যেভাবে নামবে সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। চোখের সামনে যখন দেখবেন পাহাড়ী উপড়ে পড়া গাছ পাক খেতে খেতে ঘূর্নি আকারে আপনার সামনে আসছে কি মনে হয়? এক মিনিট চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো? আর সময়টা হল এপ্রিলের শেষের দিকে ২০১১ সালে। ভরা বর্ষা।
নাফাখুম নিয়ে জানার ইচ্ছে?
নাফাখুম জলপ্রপাত (বাংলাদেশের নায়াগ্রা) নামকরণ কেন?


Again Thanks to bdnews24.com

Facebook Link: http://goo.gl/A5TErL

Blog Link: http://goo.gl/ERVhP1


স্বপ্নের সাজেকে একদিন


একটা সময় খুব একা ফিল করতাম, হতাশ ছিলাম, আর সাজেকের গল্প পড়তাম ব্লগে, পেপারে, বইয়ে। সেখানকার জীবনযাত্রা জেনে গিয়েছিলাম আরো দুই বছর আগেই। লুসাই পাংখোয়া জাতির কথা মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। চাকরি ছেড়ে একটা সময় সাজেকে পালিয়ে হতাশা থেকে বাচঁতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সাজেক আমার দেখা হয়নি সে সময়। আরো কিছু বছর আগেই সাজেক ছিল একটা দুর্গম জায়গা। আর আজ সেখানে আর্মির কল্যানে আমরা যেতে পারছি।

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে মারিশ্যা রাস্তার উপর দিয়ে কাচালাং পার হয়ে মাচালাং হয়ে রুইলুই পাড়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক ভ্যালীতে আসতে হবে।
সাজেকে কি আছে যা নিয়ে এত হাউ কাউ? সাজেকের পাহাড় চূঁড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের অদ্ভুত দৃশ্য দেখে সকল ক্লান্তি ও কষ্ট নিমিষেই মিলিয়ে যায়।


আরো কিছু জানার থাকলে দেখে নিতে পারেন। http://goo.gl/6yCSYM
ধন্যবাদ bdnews24.com-কে। http://goo.gl/22n4WH


Saturday, June 13, 2015

জীবন মানেই জী বাংলা

ইদানিং ফেসবুকে ঢুকলে মেজাজ খারাপ হয়। কেন খারাপ হয়? নিউজফিড ভরা বিছানাকান্দি, সাজেক, হামহাম, আর টপ লিস্টের নতুন সংযোজন ডিম পাহাড়ের ছবি (হালকা বদ হজমের সমস্যা আছে বস)। এত্ত সুন্দর দেশটাতে ঘুরার আর কোন জায়গা নাই?

আপনি বা আপনারা সবাই দল বেধে একটা জায়গায় যেতেই পারেন। সমস্যাটা কি? কুল বস বুঝিয়ে বলতেছি.....
সাধারনত বিয়েতে চার-পাঁচ দিনের একটা অনুষ্ঠান হয়। আপনার বাসার কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে, আপনার নিকট আত্মীয় স্বজন নিশ্চয় আপনার বাসাতেই নোঙর ফেলবে। তাদের যেতে যেতে বিয়ের পরে আরও সাতদিন। তখনকি আপনার বাসার স্বভাবিক অবস্থা বজায় থাকবে? আর দু-একজন তখন ঘাপটি মেড়ে আপনার বাসায় অতিথি হয়ে বসে থাকলে আপনার মুখের দিকে তাকানো যাবে? তাকে আপনার খুন করতেও ইচ্ছে হতে পারে। আমরা প্রায় সারা বছরই জায়গাগুলোকে বিয়ে বাড়ি বানিয়ে রাখছি। বুঝেন তাইলে আমরা প্রকৃতির কাছে বেড়াতে গেলে অতিথি হয়েই যাই। 

সবাই এক সাথে দল বেধে, বর যাত্রী সেজে, একটা জায়গাতেই গেলে জায়গাটার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
প্রমাণ হিসেবে রাতারগুলের কথাই ধরুন। মাইকে সিলাকি জাওয়ানা, মুন্নিকী বদনামী বাজিয়ে পিকনিক করে, ট্রাভেলার/টুরিস্টের অতিরিক্ত চাপে রাতারগুল এখন স্ট্রক করে প্যারালাইজড রোগীর মত অাসিইউ ভর্তি হয়ে আছে।

আমাদের দেশ আমরাই ঘুরে বেড়াবো। তবে দুইটা-তিনটা জায়গাতেই সবাই এক সাথে কেন? আপনার পরিচিত কেউ যখন বান্দরবান যাবে, আপনি একটু তেঁতুলিয়া ঘুরে আসেন। পরের বার কেউ সিলেট গেলে আপনি একটু সাতক্ষীরা যান। রাতারগুল, সাজেক, ডিম পাহাড়, হামহাম, বিছানাকান্দি, বগা লেকের মধ্যেই কেন আমরা সীমাবদ্ধ।

ঘুরতে বের হবার আগে দেখার মত চোখ দরকার। ঐ চোখটা থাকলে দেখবেন, এই ছোট্ট দেশটায় ঘুরে দেখার জায়গার শেষ নাই। কাধে ক্যামেরা নিয়ে সেলফি তুলে একদিনে হামহাম, লাউয়াছড়া, বিছনাকান্দি। দুই দিনে সাইকেলে ক্রস কান্ট্রি এসব হেডম গিরি কইরা, ছাগলামি দেখায়া লাভ নাই।

ঘুরতে বেড়িয়ে ঝরনার পাশে বসে যদি ঝরনার শব্দটাই না শুণবেন, ঝরনায় গা এলিয়ে শান্তিতে দুদন্ড দাড়িয়েই না থাকবেন, কারবাড়ির ঘরে দুই-এক রাত না কাটাবেন, গাধুলি-সূর্যাস্থ বেলায় পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখার সময়ই না থাকবে, তাইলে ঘুরতে বের হইয়া লাভ নাই বস জী-বাংলা দেখেন।

জানেন তো, জীবন মানেই জী বাংলা....

-Himu Central Jail


Thursday, April 30, 2015

বাংলাদেশের শীর্ষ সাত পাহাড় (উচ্চতা অনুসারে)

১। সাকাহাফং : 

বই পত্র আর ম্যাপে এর নাম মদক তং । ট্রেকাররা ডাকে সাকাহাফং নামে । বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব সীমানায় মায়ানমার সাথে দেয়ালের মত দাড়িয়ে আছে মদক রেঞ্জ বা পাহাড়ের সারি । এই পাহাড় সারির মাঝেই আছে দেশের সবচেয় উচু উচু চুড়াগুলো। সাকাহাফং নামটা ত্রিপুরা ভাষায় যার অর্থ পূবের পাহাড় । প্রথম দিকের অভিযাত্রীরা সব ত্রিপুরা পাড়া শালুকিয়া অবস্হান করে চুড়ায় যেতো । প্রথামদিককার একটি অভিযাত্রী দল এসে এই পাহাড়ের নাম খোজ করলে জানতে পারে পাহাড়ীদের কাছে (ত্রিপুরা) এর কোন নাম নেই ! পাহাড়টা পূবদিকে তাই অভিযাত্রীরা গ্রামবাসীদেরর সাথে আলোচনা করে ঠিক করে এখন থেকে একে পুবের পাহাড় নামেই ডাকা হবে । সেই থেকে এর নাম ত্রিপুরা ভাষায় সাকাহাফং নামেই প্রচার ও প্রসার লাভ করে । 


২। জ ত্লং : 

অনেকদিন পর্যন্ত মদক মুয়ালকেই কিছু কিছু লোকজন দেশের সবচেয়ে উচু চুড়া মনে করত । তবে নাসার স্যাটেলাইট ডেটা থেকে দেখা যায় এটা দেশের ২য় বা ৩য় চুড়া । কোন কোন স্যাটেলাইট ডেটা অনুসারে রেংত্লাং রেঞ্জের দুমলং ২য় আর জ-ত্লং তৃতীয় । তবে অভিযাত্রী দলগুলো প্রায় সবাই জ ত্লং কেই ২য় পেয়েছে । তবে জত্লং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য এর ১ম, ২য় বা ৩য় অবস্হান না । এর কঠিন আর দুরূহ আরোহন পথটাই একে অন্যান্য চুড়া থেকে সতন্ত্র করেছে। সব অভিযাত্রীরাই এ কথা বিনা দিধায় বলবে আমাদের দেশে জ-ত্লং আরোহন -ই সবচেয়ে কঠিন ।


৩। দুম লং : 

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়া মদক তং বা সাকাহাফং অভিযানের পর দেশের এডভেঞ্চার প্রেমীদের চোখ পরে দুমলং এর উপর । রেংত্লাং রেঞ্জের সর্বোচ্চ চুড়াটি তখনও দুমলং নামে পরিচিত হয়নি । গুগুল আর্থ - এ এটাকেই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে দেখাত । রেংত্লাং এর সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে একে রেংত্লাং নামেই ডাকা হতো । রেংত্লাং এর এই চুড়াটা স্হানীয়রা দুমলং নামেই ডাকে। দুমলং মুলত একটি ঝিরি বা ছোট পাহাড়ি নদী , যেটা পাহাড়ের গা বেয়ে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে রাইখান নদীটে মিশেছে । এই ধারাটির উৎস হিসেবে চুড়াটাকেও দুমলং বলা হয় । দুমলং এর তিনটি চুড়া , উত্তরের চুড়া, পশ্চিমের চুড়া আর আসল চুড়া। 



৪ । যোগী হাফং :

বাংলাদেশের এ পর্যন্ত অভিযান হয়েছে এমন পাহাড়গুলোর মাঝে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ঝুকিপূর্ণ চুড়া যোগী হাফং। মায়ানমারসীমান্তে অবস্হিত মদক রেঞ্জেরআরো উচু উচু চুড়া আছে । দেশের সবচেয়ে উচু চুড়া মদক তং বা সাকাহাফং ও এই এলাকাতেই অবস্হিত । আর সবচেয়ে কঠিন ও কষ্ট সাধ্য জ ত্লং (২য়সর্বোচ্চ) এর খুব কাছেই অবস্হিত । কিন্তু এই যোগী হা ফং বা যোগী পাহাড়টাই আরোহণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক । 


৫। কেওক্রাডং :

কেওক্রাডং বা তাজিংডং কোনটাই যে দেশের শীর্ষ চুড়া না , সেটা ইউএস টপোগ্রাফিক ম্যাপ আর রাশান টপো ম্যাপে দেখা যায় বেশ কয়েক বছর আগেই। তবে এই ম্যাপগুলো উন্মুক্ত হলেও সহজলভ্য ছিল না। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের যুগে ইন্টারনেটের অভাবিত বিস্তারে সবাই বেশী করে একসেস পায় - এজাতীয় তথ্য আর মানচিত্রে। 
কেওক্রাডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। অর্থাৎ বান্দরবানেরও দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে। মারমা ভাষায় কেও মানে 'পাথর', ক্রা মানে 'পাহাড়' আর এবং ডং মানে 'সবচেয়ে উঁচু'। অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়।


৬। লুকুডং বা থিনদলতে: 

থিনদলতে পাড়া থেকে চুড়ায় যাবার সময় এরকম একটা ভিউ পাওয়া যায় থিনদলতে পাহাড় বা লুকু ডং এর । থিনদলতে - একটা গাছের নাম । ছোট ছোট পাতা । প্রথম যখন পাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় এখানে, বর্তমান কারবারীর বাবার আমলে, ছোট ছোটা পাতার এই গাছটি প্রচুর পরিমানে ছিল এখানে। আর থিনদলতে গাছের নাম অনুসারে এই পাড়ার নামও হয়ে যায় থিন্দলতে পাড়া । আশে পাশের পাড়ার লোকেরা একে ডাকে 'লুকু' নামে, লুকুডং । তবে থিনদলতে পাড়ার লোকেরা একে থিনদলতে ত্ল্যাং নামেও ডাকে আবার লুকুডং ও বলে । আর থিনদলতে পাড়া থেকে চুড়া মাত্র ঘন্টা খানেকের পথ । 



৭ । রেং ত্লাং : ডুমলং এর দক্ষিণে । নামটা নিশ্চত নয় । অন্য নামও থাকতে পারে ।


Thanks রাতুলবিডি৪