Showing posts with label খাগড়াছড়ি. Show all posts
Showing posts with label খাগড়াছড়ি. Show all posts

Sunday, May 24, 2015

স্বপ্নের সাজেকে দ্বিতীয়বার



সাজেক নিয়ে আমি গত ২/৩ বছর অনেক পড়েছি, অনেক জেনেছি, অনেক ভেবেছি, অনেক স্বপ্ন দেখেছি, অনেক যেতে চেয়েছি, অনেকবার ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও যাওয়া হয়নি, আবার কয়েকবার যাবার প্ল্যান করার পর গ্রুপ মেম্বারের অভাবে সেটা স্বপ্নেই থেকে গিয়েছিল।

একটা সময় খুব একা ফিল করতাম, হতাশ ছিলাম, আর সাজেকের গল্প পড়তাম ব্লগে, পেপারে, বইয়ে। সেখানকার জীবনযাত্রা জেনে গিয়েছিলাম আরো দুই বছর আগেই। লুসাই পাংখোয়া জাতির কথা মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। চাকরি ছেড়ে একটা সময় সাজেকে পালিয়ে হতাশা থেকে বাচঁতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সাজেক আমার দেখা হয়নি সে সময়।

কথাগুলো আমার প্রথমবার সাজেক ভ্রমনের পরে ব্লগে লিখা। আজ আবার ব্লগখানা বের করে দেখি এবার এটা নিয়ে আরেকটু বাড়িয়ে লিখা দরকার। আসলে ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও এখন কোথাও যাওয়া হয় না, গেলেও অনেক বাধা আসায় ট্রাভেলের ইচ্ছেটা দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু যার মাথায় ট্রাভেলের পোকা থাকে সেটা মনে হয় আর বের হয় না হবেও না, মাথার এক কোনার নিউরনে থেকেই যাবে।

সাজেক নিয়ে এবার লিখার আগে আপনাদের কিছু প্রশ্ন করবো দেখি পারেন কিনা?

সাজেক কোথায় অবস্থিত?
  •     বান্দরবন থানছিতে
  •     রাঙ্গামাটির রুইলুইতে।
  •     খাগড়াছড়ির দিঘিনালায়।
  •     ইন্ডিয়ার মিজোরামে।
Click: Riffat Shahriar


বাংলাদেশের কোন যায়গায় গ্রীষ্ম, শীত, বর্ষা একসাথে/একইদিনে পাওয়া যায়?
  •      নোয়াখালী
  •      ফেনী
  •      সাজেক
  •      শ্রীমঙ্গল
  •      ঢাকা
Click: Riffat Shahriar


সাজেকে কারা বসবাস করে?
  •      চাকমা
  •      ত্রিপুরা
  •      পাংখুয়া
  •      লুসাই
  •      আপনি আর আমি
  •      আর্মি/পুলিশ/বিজিবি
Click: Riffat Shahriar


সাজেক দেখে আপনার কোন দেশের মত মনে হবে?
  •      নেদারল্যান্ড
  •      ভারত
  •      নেপাল
  •      ভূটান
  •      কোলকাতা
Click: Riffat Shahriar


সাজেকে কোথায় থাকবেন?
  • রক-সাজেক রিসোর্ট/ রুন্ময় রিসোর্ট/ আলো রিসোর্ট
  • পাহাড়িদের বাড়িতে
  • হোটেল সাজেক ওয়েস্টিন
  • সাজেক রিজেন্সি হোটেল
  • মোটেল রেডিসন-সাজেক
Click: Riffat Shahriar


সাজেকে কি শস্য পাওয়া যায়?
  •     গ্লোরিয়া জিন্স/কফি ওয়ার্ল্ড-এর কফি
  •     সিলেটের ৭ লেয়ারের চা/চা পাতা
  •     আলু
  •     হলুদ
  •     তরমুজ
Click: Riffat Shahriar


কি? কয়টা পারবেন? আশা করি উত্তরগুলো জানাতে হলে আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে অথবা আগের ব্লগগুলো আপনাকে পড়তে হবে।

দ্বিতীয়বারের মত সাজেক দেখে সাজেকের ষোলকলা পূর্ন হবার কথা বলি।

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে মারিশ্যা রাস্তার উপর দিয়ে কাচালাং পার হয়ে মাচালাং হয়ে রুইলুই পাড়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক ভ্যালীতে আসতে হবে। সাজেকের জন্যে এবার ১২ জনের গ্রুপ নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে খাগড়াছড়ি পোছাইলাম ৯.৩০-এ, নাস্তা সেরে একটা বাটপার ড্রাইভারকে নিয়ে রওনা দিলাম, ৭,০০০ টাকা যাওয়া আসা চুক্তিতে।

বলে রাখা ভালো, আগের মত এখন আর ড্রাইভাররা ভালো না, দালাল হয়ে গেছে, বাঙ্গালী দেখলেই বোকা বানাইতে চায়, ১০-১৫ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া চেয়ে বসবে, চিন্তাও করতে পারবেন না। আর সাজেকে ড্রাইভারের খাওয়া দাওয়ার দায়িত্ব আপনি নিবেন না। সেটা শুরুতেই ভেঙ্গে নিবেন।

আর কংলাক/কমলক (সাজেকের উচ্চতম পাড়ার নাম কংলাক পাড়া (কমলক), আসার পথে অনেক কমলা বাগান আছে। কমলক রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় সিপ্পুতে অবস্থিত। সেখানকার উপজাতিরা পাঙ্কু সম্প্রদায়, অধিকাংশই শিক্ষিত এবং পোশাকে সেই রকম আধুনিক। কাংলাক থেকে আর সামনে না যাওয়াই ভালো কারন  অপহরণের আশংকা রয়েছে। এখানে কফির চাষও হয়।) যাবেন সেটা আগেই ভেঙ্গে নিবেন।

অবশেষে পৌঁছে যাই স্বপ্নের সাজেক। সাজেকের পাহাড় চূঁড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের অদ্ভুত দৃশ্য দেখে সকল ক্লান্তি ও কষ্ট নিমিষেই স্লান হয়ে যায়। প্রকৃতির এতো সুন্দর রূপ আগে কখনও দেখিনি। সাজেকের এই প্রাকৃতিক রূপের সাথে পাংখোয়া ও লুসাই আদিবাসীদের বৈচিত্রময় জীবন যাত্রা দেখে আরও বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যাই। উঁচু মাচার ঘরে গাছের গুড়ি কেঁটে বানানো সিঁড়ি, ঘরের ছাউনী বাঁশের পাতার। ঘরের সামনে ফুলের বাগান, মাঝে মাঝেই ক্যাকটাস ও অর্কিড শোভা পাচ্ছে রুইলুই গ্রামটি। ঢালুতে ২/৩ শত বছরের পুরোনো বিশাল বিশাল গাছ। বাড়ির অদূরেই অসংখ্য কমলা বানান। এরই মাঝে চোঁখে পড়ে অসংখ্য ঔষুধী গাছ-গাছড়া। একে বারে ঢালুতে যেদিন তাকাই সেদিকই লক্ষ কোটি বাঁশ আর বাঁশ। সেই ঘর থেকে একে একে বেড়িয়ে আসছে আদিবাসীরা। কেউ পানি আনতে, কেউ বা জুম ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল আনতে ব্যস্ত তারা। পরনে তাদের জিন্সের প্যান্ট, গায়ে হাতা কাঁটা সট গেঞ্জি, ব্রা, শার্ট, স্টাট ইত্যাদি। লাবন্যময়ী রূপসী মেয়েদের দেখে মনে হয়েছে বোম্বের কোন নায়িকা এখানে শুটিং-এ এসেছে। পোষাক দেখে মনে হয়েছে এ যেন বাংলাদেশের ভেতর এক খন্ড ইউরোপ।

বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি এক পর্যায়ে জানাগেল তাদের ধর্ম খৃষ্টান। মিজো ভাষায় তারা কথা বললেও ইংরেজি তাদের অক্ষর ইংরেজী। লুসাই ও পাংখোয়া আদিবাসীরা বাংলা ভাষার চেয়ে ইংরেজিতে কথা বলতেই বেশি পছন্দ করে। এসকল ভিন্ন জীবন ধারার সাথে পার্বত্য এলাকার অনেক উপজাতিই পরিচিত নয়।
এসব আমি আগেও বলেছি এবার আবারো বললাম।

সাজেকে সিকিউরিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হাস্যকর, যেখানে ১টা আর্মি ক্যাম্প, ১টা বিজিবি ক্যাম্প, ১টা পুলিশের ক্যাম্প অবস্থিত যাকে সাজেক বিওপি বলে। আমার ছবিতে একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে ১জন বিজিবি সদস্য হেটে যাচ্ছে। আর পুরা এলাকাই আর্মির সিকিউরিটির আন্ডারে। আর সাজেকে আসার আগে ২টা আর্মির ক্যাম্পে রিপোর্ট করে আসা লাগে। রুইলুই পাড়ায় কে ঢুকে কে বের হয় সব রেজিস্টারে লিখা হয়। আমি যেখানে ছিলাম সেই রুমের দরজার কোন তালাও ছিল না, পাহাড়ি কেউ এই এলাকায় চুরি চামারীও করে না। সবাই আর্মিকে যমের মত ভয় পায়, গেম অফ থ্রোন্সের একটা ভাব আছে।



Click: Riffat Shahriar


আর ঢাকায় যেখানে ৩৬/৩৭ ডিগ্রি গরম পড়েছে সেখানে সাজেকে রাতে আমরা ঠান্ডার কারনে কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমিয়েছি। আর বিকালে যে ঝড় তুফান হল আর এর পর যে পাহাড়ি ঢল, অনেকদিন এমন ঝড়ে পড়িনাই/দেখিনাই। শেষে এক আর্মির গাড়িতে করে আমাদের রুন্ময়ের সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়। এক একটা বৃষ্টির ফোটা গায়ে পড়ছিল আর মনে হচ্ছিল কে জানি আমার গায়ে আলপিন দিয়ে গুতা দিচ্ছে।

৩০ মিনিটের বৃষ্টির পর যে মেঘ দেখলাম চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যাচ্ছে , মনে হচ্ছিলো যাহ এসব কি দেখি? সত্য কি আমি দেখলাম? সাথে থাকা বন্ধুকে বললাম বেটা টর্চ মার তো দেখি কি যায় সাদা সাদা। চোখের সামনে ১ কিলোমিটার দূরে সাজেক রিসোর্ট দেখলাম মেঘে ঢেকে গেলো। রিসোর্টের ভিতরের আলো আবছা দেখা যায়। হেলিপ্যাডে যেতে যেতে মেঘ নামক হাল্কা স্তরের কুয়াশা আর দেখা গেল না। পরদিন আবার যে রোদ পড়লো আমার ২ পায়ের নিচের দিক আর ২ হাত রোদে একদম পুড়ে গেল, সেই পোড়া হাতের জ্বালা নিয়েই লিখছি এখন।
যাক শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মত সাজেক দেখে সাজেকের ষোলকলা পূর্ন হল এবার। সব দেখেছি একদম সব। 

ঢাকায় চলে এসেছি নিয়ে এসেছি সাজেকের অনেক ছবি।

ছবি এবার দিবো পরে, এবার আর বেশি ছবি দেখাবো না, নিজের চোখে দেখে আসুন, আশা করি ভালো লাগবে। প্রথমবার সাজেক ঘুরে আসার পর আগের ব্লগে কথা দিয়েছিলাম আবার যাবো সাজেক, হুম আমি কথা রেখেছি।  
আজ আবার কথা দিচ্ছি আবার যাবো। তবে আশা করি পরের বার নিজের ফ্যামিলি নিয়ে যাবো।


Click: Riffat Shahriar


সাজেক নিয়ে আমার আগের ব্লগ দেখতে পারেন-

-স্বপ্নের সাজেকে একদিন

এছাড়াও খাগড়াছড়ি নিয়ে ব্লগ দেখে নিতে পারেন-
-খাগড়াছড়ি ভ্রমণ
-আলুটিলাগুহা, খাগড়াছড়ি

সাজেক এখন আর স্বপ্ন নয়!  

সাজেক নিয়ে  Hello Tech এর উদ্যোগে একটি এন্ড্রয়েড এপ্স বানানো হয়েছে, চাইলে ডাউনলোড করতে পারেন নিচের লিঙ্ক থেকে। 


এপ্স ডাউনলোড লিঙ্কঃ Sajek Tour Guide (সাজেক গাইড)



সাজেক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে এপ্লিকেশনটিতে।
  • কিভাবে যেতে হয়
  • কোন যাতায়াতের ভাড়া কেমন
  • সর্বমোট বাজেট কেমন লাগতে পারে
  • কোথায় থাকার ব্যবস্থা আছে
  • পাহাড়ি মাচায় থাকতে হলে কি করতে হবে
  • ট্যুর গাইডের জন্য
  • রিসোর্ট বুকিং এর জন্য কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে –এই তথ্য গুলো আছে এপ্লিকেশনটিতে।

Saturday, January 10, 2015

খাগড়াছড়ি ভ্রমণ


খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মোট আয়তন ২৭০০ বর্গ কিলোমিটার। এই জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা, পূর্বে ভারতের মিজোরাম রাজ্য ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলাও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য অবস্থিত। খাগড়াছড়ি একটি নদীর নাম। নদীর পাড়ে খাগড়া বন থাকায় একে খাগড়াছড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৭০০ সালে এই এলাটি কার্পাস মহাল নামে পরিচিত ছিল। তৎকালিন এর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোঃ এর সাথে একযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তুলা কার্পাস) ট্যাক্স হিসাবে দিতে হতো।


প্ল্যান১ঃ
০ দিনঃ ঢাকা – খাগড়াছড়ি। (আমরা সাধারণত রাতের বাসে যাই ও ঢাকাকে প্রাধান্য দেই তাই এভাবে লিখলাম)।
১ দিনঃ খাগড়াছড়ি – আলুটিলা ও গুহা – রিসাং ঝর্ণা – অপু ঝর্ণা – দেবতা পুকুর।
২ দিনঃ খাগড়াছড়ি – দীঘিনালা – সাজেক – হাজাছড়া ঝর্ণা – ঝুলন্ত ব্রীজ – দীঘিনালা বন বিহার – খাগড়াছড়ি –ঢাকা (রাতের বাসে)।
প্রথম দিন ২৮০০-৩০০০ টাকায়  চাঁদের গাড়ী রিজার্ভ নিয়ে সব গুলো স্থান দেখতেপারবেন। দ্বিতীয় দিন ৫০০০-৬০০০ টাকার মত নিবে।


প্ল্যান২ঃ
০ দিনঃ ঢাকা – খাগড়াছড়ি।
১ দিনঃ খাগড়াছড়ি  –  দীঘিনালা – তৈদুছড়া ১ ও ২ ঝর্ণা – দীঘিনালা।
২দিনঃ দীঘিনালা– সাজেক – হাজাছড়া ঝর্ণা– ঝুলন্ত ব্রীজ– দীঘিনালা বন বিহার – দীঘিনালা।
৩ দিনঃ দীঘিনালা- নন্দরাম – সিজুক ১ ও ২ ঝর্ণা – খাগড়াছড়ি – ঢাকা (রাতের বাসে)
প্রথম দিন চাঁদের গাড়ী রিজার্ভ না নিয়েও যেতে পারবেন। চাঁদের গাড়ী ১১০০-১২০০ টাকার মধ্যে রিজার্ভ নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালাআসতে পারবেন। অথবা বাসে দীঘিনালা জন প্রতি ৪৫ টাকা এবং মোটর সাইকেলে জন প্রতিভাড়া ১০০ টাকা। দীঘিনালা থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন ৪০০০- ৪৫০০ টাকার মত নিবে।


প্ল্যান৩ঃ
০ দিনঃ ঢাকা – খাগড়াছড়ি।
১ দিনঃ খাগড়াছড়ি – আলুটিলা ও গুহা – রিসাং ঝর্ণা – অপু ঝর্ণা – দেবতা পুকুর।
২ দিনঃ খাগড়াছড়ি  –  দীঘিনালা – তৈদুছড়া ১ ও ২ ঝর্ণা – দীঘিনালা।
৩ দিনঃ দীঘিনালা – সাজেক – হাজাছড়া ঝর্ণা – ঝুলন্ত ব্রীজ – দীঘিনালা বন বিহার – খাগড়াছড়ি – ঢাকা (রাতের বাসে)

কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে শ্যামলী , হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা। শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা যায়। ভাড়া ৫৮০ টাকা। এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। 

যোগাযোগঃ

সেন্টমার্টিন্স পরিবহন - আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১ , ০১৭৬২৬৯১৩৪০। খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮।
শ্যামলী পরিবহন- আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১। কল্যাণপুরঃ৯০০৩৩৩১ , ৮০৩৪২৭৫। আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১ , ৯১২৪৫৪। দামপাড়া(চট্টগ্রাম)ঃ ০১৭১১৩৭১৪০৫ , ০১৭১১৩৭৭২৪৯। 
শান্তি পরিবহন-আরামবাগ(ঢাকা) –০১১৯০৯৯৪০০৭। অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) ০১৮১৭৭১৫৫৫২। চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন।
BRTC এসিবাস  কদমতলী(চট্টগ্রাম): ০১৬৮২৩৮৫১২৫। খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭।

কোথায় থাকবেনঃ
খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল সহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে। দীঘিনালায় কয়েকটি হোটেল থাকলেও দীঘিনালা গেস্ট হাউজের মান কিছুটা ভালো।

খাগড়াছড়িঃ

পর্যটন মোটেলঃ এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পরবে। মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার। ভাড়াঃ এসি ২১০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা। মোটেলের অভ্যন্তরে মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানো আছে। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫।

হোটেল ইকোছড়ি ইনঃ খাগড়াপুর ক্যান্টর্মেন্ট এর পাশে পাহাড়ী পরিবেশে অবস্থিত। এটি রিসোর্ট টাইপের হোটেল। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬২৫ , ৩৭৪৩২২৫।
হোটেল শৈল সুবর্নঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬ , ০১১৯০৭৭৬৮১২।
হোটেল জেরিনঃ ০৩৭১-৬১০৭১।
হোটেল লবিয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০ , ০১৫৫৬৫৭৫৭৪৬ ,০১১৯৯২৪৪৭৩০।
হোটেল শিল্পীঃ ০৩৭১-৬১৭৯৫।

দীঘিনালাঃ

দীঘিনালা গেস্ট হাউজঃ এটি দীঘিনালা শহরের বাস স্ট্যান্ডের উল্টো পাশে অবস্থিত। এটি দীঘিনালার আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে একটু মানসম্মত। এখানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে রুম নিয়ে থাকা যাবে। নূর মোহাম্মদ(ম্যানেজার) – ০১৮২৭৪৬৮৩৭৭
  
শাহজাহান হোটেলঃ হোটেলটি  দীঘিনালা বাজারেই। ০১৮২৫৯৮০৮৬৭  (ম্যানেজার) ০১৭৩২৫৭৩৬১৫ (মালিক)


কি দিয়ে ঘুরবেনঃ
খাগড়াছড়ি পাহাড়ী এলাকা তাই এই এলাকা পাবলিক বাস সার্ভিস কম। প্রায় সব রুটে পাবলিক বাস চললেও খুব কম। যতটুকু জানি সাজেক রোডে সপ্তাহে একদিন বাজারের দিন বাস যায় তাও একটি। তাই এর আশা করলে ভাল করে কিছু দেখা হবে না। ভাল ভাবে সব কিছু দেখতে হলে নিজস্ব গাড়ী বা রিজার্ভ চাঁদের গাড়ীই ভরসা। চাঁদের গাড়ীর ভাড়া একটু বেশী হলেও যদি বড় গ্রুপ যান তাহলে খরচ  অনেকটা কমে আসবে। চাঁদের গাড়ী দুই সাইজের হয়। ছোটটিতে ১৪ জনের মতো বসতে পারবেন। আর ছাদে বসলে তো অনেক। যদি পূর্বের অভিজ্ঞতা না থাকে তবে ছাদে উঠলে লোহার এঙ্গেল ধরে একটু সাবধানে বসবেন। পার্বত্য আঞ্চলের মধ্যে খাগড়াছড়িতে পর্যটক তুলনা মূলক কম যায় তাই অনেক গাড়ি পাবেন। শহরের শাপলা চত্তরের পাশে ও দীঘিনালা বাস ষ্ট্যান্ডে গাড়ী পাবেন। একটু দেখে শুনে দর দাম করে ঠিক করে নিবেন।

কোথায় খাবেনঃ
শহরেকিছু ভাল মানের খাবার হোটেল থাকলেও দীঘিনালাতে তেমন মানের পাবেন না। তাই সৌন্দর্য্য দর্শনকে প্রাধান্য দিয়ে এই বিষয়টা একটু ছাড় দিতে হবে। সাজেক সহ ঝর্ণা দেখার দিন অবশ্যই শুকনো খাবার সাথে রাখবেন। আর খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় অবস্থিত সিস্টেম রেস্তোরায় অন্তত এক বেলা হলেও খেতে ভুলবেন না। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬৩৪ , ০১৫৫৬৭৭৩৪৯৩, ০১৭৩২৯০৬৩২২।



দীঘিনালারচাঁদের গাড়ির ড্রাইভার রাজ - ০১৮২০৭৪১৬৬২, ০১৮৪৯৮৭৮৬৪৯। শিবু-০১৮২০৭৪৬৭৪৪। সাজেক যেতে গাইডের তেমন দরকার নেই। তবুও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন। আজম(গাইড, দীঘিনালা)- ০১৫৫৭৩৪৬৪৪২ আর MD Mubarok Khan Mohin ( 01828833400) ড্রাইভার ও গাইডকে আমার রেফারেন্স দিয়ে কথা বললে সাজেক সহ খাগড়াছড়ির সব জায়গায় ওদের নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে আসতে পারবেন বলে আশা করছি। খাগড়াছড়ি থেকে আপনি বাস বা মাইক্রোভাড়া নিয়ে বা নিজস্ব গাড়ীতে ভিতরের মনোরম পাহাড়ী পথে রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে বাসে মহালছড়ি গিয়ে মহালছড়ি জালুয়া পাড়া ঘাট থেকে ট্রলারে নানিয়ার চর হয়ে রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন। এছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে বাস বা জিপে ( লোকাল নাম চাঁন্দেরগাড়ী ) লংগদু গিয়ে ট্রলারে করে রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন।

আপনার সুন্দর, নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব ভ্রমনেই খুঁজে পাব আমার লেখার স্বার্থকতা। আপনার আনন্দ যাতে অন্যের বিষাদের কারণ না হয় সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনার ও আপনার সঙ্গীদের দ্বারা প্রকৃতিরও যেন কোন ক্ষতি না হয় সেটাও খেয়াল রাখবেন। আসুন আমরা সাঁজাই আমাদের পৃথিবী সবুজের সমারহে। রেখে যাই সবুজ, সুন্দর ও দূষন মুক্ত পৃথিবী পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। সবাই ভাল ও নিরাপদে থাকবেন।


Thanks to Travel Of Bangladesh (TOB), Living In Forest, Sumit Bikram Rana.