The travel blog of Rono's Traveling features tips and advice on how you can travel better, cheaper, and smarter so you can explore the Bangladesh on a budget.
** সিলেট শহর থেকে গোয়াইন ঘাট যেতে হবে সিএনজি করে, ১/১.৫ ঘন্টা লাগবে, ঘাট থেকে মোটর বোটে করে রাতারগুলে যেতে হবে আরো ২/২.৫ ঘন্টা লাগবে, সেইখান থেকে সোয়াম্প ফরেস্টে ঢুকতে হইলে ডিঙ্গি নৌকা করে বনের ভিতরে ঢুকতে হবে।
রাতারগুল
** পান্থুমাই, সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব ৪০ কিমি, জাফলং দিয়ে না গিয়ে সিলেটের এয়ারপোর্ট রোড হয়ে সালুটিকর হয়ে গেলে পথ কম হবে । ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের নিচে, একেবারে সীমান্ত ঘেঁষা এই গ্রামটি আসলেই অসাধারণ।
পান্থুমাই
** বিছানাকান্দি যেতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট যেতে হবে। সেখানে বিমানবন্দর রোডের দিকে সিএনজি স্টেশন আছে। সিএনজি হাদারঘাট নামক জায়গা পর্যন্ত রিজার্ভ করে গেলে ভাল হয়। পাঁচজন মিলে ৪০০টাকায় সাধারণত ভাড়া নেওয়া হয়। তবে মানুষ কম থাকলে ৮০টাকা জনপ্রতিও যাওয়া যায়। বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তা অনেক সুন্দর। বিমানবন্দর থেকে সালুটিকর রাস্তায় প্রবেশ করলেই রাস্তা চরম খারাপ। পিচ ঢালা কালো রাজপথে একটু পরপরই ভাঙ্গা গর্ত। খারাপ রাস্তা পার হয়েই আপনি একদম গ্রামের ভেতর ঢুকে যাবেন। দেখতে আপনি হাদারঘাট এসে পৌছাবেন। হাদারপার বাজারেই বিছানাকান্দি যাওয়ার নৌকা পাওয়া যায়।
বিছানাকান্দি
# সিলেটের উল্লেখযোগ্য টুরিস্ট স্পট সমূহ, কিভাবে যাবেন, কিসে যাবেন্ ভাড়া কেমন, কোথায় থাকবেন, কি কি প্রয়োজন তার সব বিস্তারিত ভাবে দেয়া আছে এপ্লিকেশনটিতে। # টুরিস্ট স্পট এর বাইরে সিলেটে আপনি কোথায় থাকবেন, হোটেল, রিসোর্ট কোথায় কি পাওয়া যায়, কোনটী কোন মানের এবং এগুলোর খরচ কেমন, বুকিং সিস্টেম কি সবটাই পাবেন এই এপ্লিকেশনে। # প্রত্যেকটি হোটেল রিসোর্টের যোগাযোগ নাম্ভার সহ ওয়েব এড্রেস পাবেন এপস টিতে। # ঘুরতে গেলেন অথচ সিলেটের মুখরোচক খাবার খাবেন না তা কি হয় :) এপসটিতে সিলেটের জনপ্রিয় সব হোটেলের, লোকেশন, খাবার ম্যেনু সহ সব তথ্য পাবেন। আশা করি ভালো লাগবে। এপ্স টি ফোণে রাখুন আর বেরিয়ে পড়ুন সিলেটের উদ্দেশ্যে। এপ্স ডাউনলোড লিঙ্কঃ Sylhet/সিলেট ট্যুর গাইড এপ্সটি তৈরি করছেঃ Hello Tech
এখানে খাসিয়া
পাহাড়ের অনেকগুলো ধাপ দুই পাশ থেকে এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। পাহাড়ের খাঁজে
সুউচ্চ ঝর্ণা। বর্ষায় থোকা থোকা মেঘ আটকে থাকে পাহাড়ের গায়ে। পূর্ব দিক থেকে
পিয়াইন নদীর একটি শাখা পাহাড়ের নীচ দিয়ে চলে গেছে ভোলাগঞ্জের দিকে। পাহাড় থেকে
নেমে আসা স্রোতের সাথে বড় বড় পাথর এসে জমা হয় বিছনাকান্দি।
বিছনাকান্দি ও মুলতঃ জাফলংয়ের মতোই একটি
পাথর কোয়ারী। শীতকালে যান্ত্রিক পাথর উত্তোলন-
সেই সাথে পাথরবাহী
নৌকা, ট্রাকের উৎপাতের কারনে পর্যটকদের জন্য
এসময় উপযুক্ত নয়। কিন্তু বর্ষায় এইসব থাকেনা বলে পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, মেঘের সমন্বয়ে বিছনাকান্দি হয়ে উঠে এক
অনিন্দ্য সুন্দর গন্তব্য।
বিছনাকান্দি যাওয়ার একাধিক পথ আছে।
বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে সিলেট গোয়াইনঘাট সড়ক ধরে হাতের বামে মোড় নিয়ে যেতে
হয় হাদারপাড়। হাদারপাড় বিছনাকান্দির একেবারেই পাশে। এখান থেকে স্থানীয় নৌকা
নিয়ে বিছনাকান্দি। হাদারপাড় পর্যন্ত গাড়ী যায়। সিলেট থেকে দূরত্ব বেশী না হলে
ও কিন্তু রাস্তার অবস্থা ভালো নয়। (সিলেট) আম্বরখানা থেকে হাদারপাড় পর্যন্ত ভাড়ার সিএনজি পাওয়া যায়।
পর্যটকদের জন্য আরেকটি বিকল্প হচ্ছে- বিছনাকান্দি যাওয়ার জন্য পাংথুমাই চলে আসা। বড়হিল ঝর্ণার কাছ
থেকেই পিয়াইন নদীর একটি শাখা পশ্চিম দিকে চলে গেছে বিছনাকান্দি। নৌকা নিয়ে
পাহাড়ের নীচ দিয়ে প্রবাহমান এই পাহাড়ী নদী ধরে বিছনাকান্দি যাওয়ার মুহুর্তগুলো
দারুন স্মরনীয় হয়ে থাকবে। নৌকা সময় লাগে একঘন্টার একটু বেশী।
Bisnakandi is a village situated in Rustompur Union under
Guainghat Upazilla. This is where many layers of the Khasi mountain meet at a
single point from both sides. Flowing from above is a high fall. Adding to its
charm are dark clouds hugging the mountain in the rainy season. And flowing
underneath towards Bholaganj is a branch of the Piyain. Along the stream
flowing from high up in the mountain come huge boulders that are deposited and
mined in Bisnakandi.
This is
where many layers of the Khasi mountain meet at a single point from both sides.
Flowing from above is a high fall. Adding to its charm are dark clouds hugging
the mountain in the rainy season.
Much like Jaflong, Bisnakandi is mostly a quarry. Winter is not a suitable time
to visit Bisnakandi due to mechanised mining and stone-laden boats and lorries.
The absence of such nuisance makes the rainy season the perfect time to visit
the beautiful Bisnakandi that coalesces the charms of high mountains, sinuous
rivers, graceful falls and dancing clouds.
How to go there?
There is more than one way to go to Bisnakandi. Tourists can
use the Sylhet-Guainghat Road via the airport and take a left turn to reach
Hadarpar from where a local boat may be hired to arrive at Bisnakandi. Visitors
can go to Hadarpar by CNG-run auto-rickshaws, which are available for hire at
Amberkhana Point in Sylhet city.
An alternative would be to go to Pangthumai first, and then hire a boat near
Borhill Fall and ride along the branch of the Piyan which flows west towards
Bisnakandi. The boat ride, which takes a little over an hour, on the sinuous
river with lush green mountains on both sides is an unforgettable experience.
Where to stay?
There is no accommodation facilities in Bisnakandhi.
Where to eat?
There is no Dine facility in Bisnakandhi. If needed tourist
has to take packed food from Sylhet.
Information you need to know?
Since Bisnakandhi Zero Point is literally Bangladesh- India
Border , Tourist should take exta care. During summer it might be dusty and
hot, need care for under age and seniors. At Monsoon sometimes it may affected
by flush flood. So get weather information is advisable.
There is no police station Ratargul. As it is under Gowainghat Thana Of Sylhet
District for any help need to call Officer In charge- 01920393533, UNO-
01730331036
[ডিস্ক্লেইমারঃ সিলেটে ঘুরাঘুরির প্ল্যান করতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। কোন দিন কোথায় যাবেন, প্ল্যান টা কিভাবে করলে ভালো হবে? কোথা থেকে শুরু করে কোথায় শেষ করবেন আর সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন এক সাথে কতটি স্পট কভার করতে পারবেন? এই নিয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন ওপেন ফোরাম থেকে পাওয়া তথ্য গুলোকে সংকলন করে বানানো একটি তথ্য বাতায়ন। এই ব্লগে ব্যবহার করা সব কটি ছবি নেট থেকে সংগৃহীত। প্রকৃত ফটোগ্রাফারদের নাম ও ছবির অরিজিনাল সোর্স ও সাথে সংযুক্তি দেয়া হয়েছে।]
প্ল্যান একঃ আরামদায়ক ভ্রমন
প্রথম দিনঃ সিলেট- ভোলা গঞ্জ (কোম্পানীগঞ্জ ) – সিলেট
দ্বিতীয় দিনঃ সিলেট-খাদিম নগর জাতীয় উদ্যান-মোটরঘাট-রাতারগুল-গোয়াইনঘাট-হাদারপাড়-বিছনাকান্দি-লক্ষনছড়া-পানথুমাই-গোয়াইন ঘাট- সারিঘাট-জৈন্তাপুর।
মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়- ধলাই নদীর স্বচ্ছ নীল পানি-পাথরের কেয়ারি আর ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প।
সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। সিলেট থেকে পাবলিক বাস বা সিএনজি বেবীট্যাক্সি করে টুকের বাজার পর্যন্ত যেতে পারবেন।ভাড়া ৬০ টাকা। রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ রকম খারাপ।টুকের বাজার থেকে আবার বেবীট্যাক্সি করে ভোলাগঞ্জ যেতে হবে। ভাড়া ৩০ টাকা। সিলেট থেকে রিজার্ভ সিএনজি প্রায় ১৫০০-২০০০ টাকার মত চাইতে পারে। বিশেষ কোয়ারীতে যেতে হলে বিজিবি’র অনুমতি নিতে হবে। ইঞ্জিন নৌকার ভাড়া ১০০০- ২০০০/- পর্যন্ত। এখানে থাকার কোন ভালো জায়গা নাই। দুপুরে খাবার জন্যে শুধু মধ্যমমানের হোটেল পাবেন।
খুব ভোরে নাস্তা করে সিলেট শহরের আম্বর খানা থেকে একটা সিএনজি রিজার্ভ করে মোটর ঘাট (শ্রিংগি ব্রিজ) চলে যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। সিএনজি যাবে খাদিম নগর জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে। মাঝপথে কিছুক্ষনের জন্য থেকে যেতে পারেন। ভোর বেলার বন একটু অন্যরকম। সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক।
শ্রিংগি ব্রিজ থেকে ছোট ডিঙি নৌকা ভাড়া করতে হবে। একটি নৌকায় মোটামোটি ৬ জন বসতে পারে। ভাড়া নিবে ৩৫০-৬০০ টাকা। বিট অফিস এর অফিসার কে জানিয়ে এর পর বনে প্রবেশ করবেন একদম নিঃশব্দে। ঘন্টা খানেক জলাবন উপভোগ করে আবার চলে আসবেন মোটর ঘাট। এইবার আপনাকে একটি বড় ট্রলার ভাড়া করতে হবে গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য। ভাড়া পরবে প্রায় ৭০০-১০০০টাকা। গোয়াইনঘাটে পৌঁছাতে লাগবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা।
দুই. বিছনাকান্দি তিন. পান্থুমাই চার. লক্ষনছড়া
বিছনাকান্দি ছবিঃ রফিকুল ইসলাম বাবু
পান্থুমাই ছবিঃ লাল কমল
গোয়াইনঘাট বাজারেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে অথবা প্যাক করে নিতে পারেন। এরপর আর খাবার কোন জায়গা পাবেন না। গোয়াইন ঘাট থেকে আপনাকে যেতে হবে হাদারপাড়। গোয়াইন ঘাট বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে সহজেই হাদারপাড় যাওয়া যাবে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০ টাকা। হাদারপাড় থেকে পানি কম থাকলে হেঁটেই চলে যেতে পারেন আপনার স্বপ্নের স্বর্গীয় স্থান ‘বিছনাকান্দি’। মাঝে একবার তিন টাকা দিয়ে খেয়া পার করতে হবে।
বর্ষার সময় পানি বেশি থাকলে আর একবারে পান্থুমাই আর লক্ষনছড়া দেখে ফেলতে চাইলে হাদারপাড় থেকে সরাসরি একটা বড় নৌকা রিজার্ভ করে নিলেই ভালো। ‘বিছনাকান্দি-লক্ষনছড়া-পান্থুমাই’ এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে আনতে নৌকার খরচ পরবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১৫০০-২০০টাকা। লক্ষনছড়া মাঝি চিনে কিনা সেটা আগেই জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন। তিনটি জায়গা মোটামোটি ভাবে ঘুরে হাদারপাড় ফিরে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘন্টা।
** হাদারপাড়ে থাকার জন্য নতুন একতি হোটেল খুলেছে, নাম “পাকশী”। খাবার হোটেলের উপরের তলায় থাকার ব্যবস্থা আছে। জনপ্রতি রুম ভাড়া ২০০টাকা।
এখন রাতে থাকার ব্যবস্থার উপর ডিপেন্ড করে আপনার কাছে অপশন থাকবে দু’টিঃ
[ক] সিলেটে থাকার হোটেল ঠিক করে থাকলে হাদারপাড় থেকে সরাসরি সিলেট শহরে ব্যাক করতে পারেন। সিএনজি নিবে জনপ্রতি ৮০টাকা। একটি সিএনজি তে ৫ জন বসতে পারে।
[খ] তামাবিল/জৈন্তাপুর এর দিকে বেশ কিছু রিসোর্ট আছে। আপনার থাকার ব্যবস্থা যদি এইদিকে কোথাও হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে হাদারপাড় থেকে আবার আগের মতই গোয়াইনঘাটে আসতে হবে। গোয়াইন ঘাট থেকে যেতে হবে সারি ঘাট। সিএনজি/লেগুনাতে করে যেতে পারেন। ভাড়া জনপ্রতি ৬০টাকা।
তৃতীয় দিনঃ
এক. জাফলং- সেনগ্রামপুঞ্জি
সেনগ্রামপুঞ্জি ছবিঃ কাউয়া
খাসিয়া পুঞ্জির গ্রাম ছবিঃ শিহাব চৌধুরি
রাতের বেলা সিলেটে থাকলে সকাল সকাল নাস্তা করে জাফলং এ চলে আসবেন। লোকাল বাসে আসতে সময় লাগবে প্রায় দুই ঘন্টা। ভাড়া নিবে ১০০টাকা। সিএনজি রিজার্ভ করলে নিবে প্রায় ৫০০-৭০০টাকা। জাফলং নেমেই সময় নষ্ট না করে খেয়া পাড় হয়ে যাবেন। ৫-১০ টাকার মত নিবে। নদী পাড় হয়ে পুঞ্জির ভিতর দিয়ে হাঁটা শুরু করতেই দেখবেন খাশিয়াদের সুন্দর সাঁজানো ছবির মত গ্রাম আর পুঞ্জি। সোজা চলে গেলে একটু পরেই পুঞ্জির বাইরে একটা খোলা জায়গায় চলে আসবেন। এরপর পিয়াইন নদী ধরে আবার পূর্ব দিকে হাঁটা দিলেই পাবেন সেনগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। ঝর্ণা টা পড়েছে ভারতে। এর ঠিক সামনেই আছে সেনগ্রামপুঞ্জি রেস্তোরা। দুপুরে এখানেই খেয়ে নিতে পারেন অথবা সময় থাকলে লালাখালের জন্য ক্ষিদে জমিয়ে রাখতে পারেন।
দুই. জৈন্তা রাজবাড়ি
জৈন্তা ছবিঃ ওসমানীনগর বার্তা
জাফলং থেকে সারিঘাটে ফেরার পথে জৈন্তাপুর বাজারের কাছেই অবস্থিত রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখে নিতে পারেন। সাথে সাইট্রাস গবেষনা কেন্দ্রের বাহারি সব টক জাতীয় ফলের বাগান ও দেখে আসতে পারেন।
তিন. লালাখাল
লালাখাল ছবিঃ নাজমুস সাকিব
জৈন্তা থেকে লোকাল বাস/সিএনজি তেসারিঘাট। সারিঘাটে নেমে ইঞ্জিননৌকা নিয়ে যাওয়া যাবে লালাখাল। আপ-ডাউন ট্রিপে একটা নৌকা নিবে৩৫০-৫০০ টাকা। দুই ঘন্টার মত সময় লাগবে আসা-যাওয়ায়। লালাখালে ছোট একটি টি- এস্টেট আছে। আর একটা নাজিমগর রিসোর্টের রেস্তোরা (রিভারকুইন ০১৭৩৩৩৩৮৮৬৬/০১৭৩৩৩৩৫৫৬০) আছে। দুপুরের খাবার এখানে খেতে পারেন। এরপর সারি ঘাট থেকে আবার সিলেট শহরে অথবা আশাপাশের কোন রিসোর্টেও থাকতে পারেন।
চতুর্থ দিনঃ
এক. লোভাছড়া
লোভাছড়া ছবিঃ আবদুল মোমেন রোহিত
সিলেট থেকে যেতে হবে কানাইঘাট। সিএনজি নিবে প্রায় ৫০০-৭০০টাকা। সময় লাগবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা। সিএনজি কে আগেই বলে নিবেন আপনাদের কতক্ষন লাগতে পারে। পরে বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে হ্যারাস করতে পারে। কানাইঘাট থেকে একটা নৌকা নিয়ে যেতে হবে লোভাছড়া চা-বাগান আর লোভাছড়া জাতীয় উদ্যান। নৌকা ভাড়া নিবে প্রায় ৫০০-৮০০টাকা। এরপর সিলেটে ফিরে আসবেন আগের পথে।
দুই. শাহজালাল (রাঃ) মাজার দেখে বিকাল টা কাটাতে পারেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে।
(অথবা এর উল্টো টা ও করা যেতে পারে)
প্ল্যান দুইঃ
প্রথম দিনঃ
এক. বিছনাকান্দি
দুই. পান্থুমাই
তিন. লক্ষনছড়া
সিলেট আম্বরখানা থেকে খুব ভোরে সিএনজি নিয়ে হাদারপাড় চলে যাবেন। ভাড়া নিবেন জনপ্রতি ৮০ টাকা। এর আগেই পারলে নাস্তা করে নিবেন। কারন হাদারপাড়ে কিছু পাবেন না। প্তহের মধ্যেই পরবে লাক্কাতুরা চা বাগান। চাইলে নেমে ঘুরে দেখতে পারেন। হাদারপাড় পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা। হাদারপাড় থেকে পানি কম থাকলে হেঁটেই চলে যেতে পারেন আপনার স্বপ্নের স্বর্গীয় স্থান ‘বিছনাকান্দি’। মাঝে একবার তিন টাকা দিয়ে খেয়া পার করতে হবে।
বর্ষার সময় পানি বেশি থাকলে আর একবারে পান্থুমাই আর লক্ষনছড়া দেখে ফেলতে চাইলে হাদারপাড় থেকে সরাসরি একটা বড় নৌকা রিজার্ভ করে নিলেই ভালো। ‘বিছনাকান্দি-লক্ষনছড়া-পান্থুমাই’ এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে আনতে নৌকার খরচ পরবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১৫০০-২০০টাকা। লক্ষনছড়া মাঝি চিনে কিনা সেটা আগেই জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন। তিনটি জায়গা মোটামোটি ভাবে ঘুরে হাদারপাড় ফিরে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘন্টা।
চার. রাতারগুল
হাদারপাড় থেকে চলে আসতে হবে গোয়াইন ঘাট। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০ টাকা। গোয়াইন ঘাট থেকে রাতারগুল যাওয়ার জন্য বড় নৌকা ভাড়া করতে হবে। ১০-১২ জনের জন্য একতা নৌকা ভাড়া নিবে প্রায় ৮০০-১৫০০ টাকা। বিট অফিস পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। নৌকার ইঞ্জিনের শক্তির উপর ডিপেন্ড করবে। বিট অফিসের সামনে থেকে আবার ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে বনের ভিতর যেতে হবে। ছোট নৌকার ভাড়া পরবে প্রায় ৩৫০-৫০০টাকা।
রাতারগুল ঘুরা শেষ করে চলে আসবেন মোটরঘাট। সেখান থেকে সিলেট শহর। ভাড়া পরবে জনপ্রতি ১০০টাকা।
দ্বিতীয় দিনঃ
এক. লোভাছড়া
খুব সকালে আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিয়ে কানাই ঘাট। ভাড়া নিবে ৫০০-৭০০ (ওয়ান ওয়ে বলে নিবেন)। সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। এরপর নৌকা নিয়ে লোভাছড়া চা-বাগান আর জাতীয় উদ্যান দেখতে যাবেন। নৌকা নিবে প্রায় ৬০০-৮০০টাকা। যেতে আসতে সময় লাগবে প্রায় ঘন্টা খানেক।
কানাইঘাটে ফিরে আপনি সোজা সিএনজি ঠিক করে চলে যাবেন সারিঘাট। সারিঘাট থেকে লালাখাল। উপরে লালাখাল যাওয়ার বিস্তারিত দেয়া আছে।
লালাখাল থেকে ফিরে জৈন্তা হয়ে চলে যাবেন জাফলং। সেনগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা দেখে, রেস্তোরায় খেয়ে দেয়ে বিকাল টা মেঘালয়ের পাহাড়ে ঢলতে দেখে আবার রাতের মধ্যে শহরে ফিরে ঢাকার বাস/ট্রেন ধরতে পারেন।
ফেরার পথে সময় আর তেল থাকলে নেমে জৈন্তা রাজবাড়ি টা দেখে নিতে পারেন।
প্ল্যান তিনঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট বর্ডার হাইকিং
এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার নাই। সাথে থাকবে নিজেদের সব প্রয়োজনীয় জিনিস। একদিক থেকে হাঁটা শুরু করবো। এরপর বর্ডার ধরে এগুতে থাকবো…
যেদিকে হবে রাইত, সেখানেই কাইত।
ঢাকা থেকে সিলেটঃ
ট্রেনঃ ঢাকা থেকে সিলেট এর রাতের ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়ে রাত ১০টায়। সিলেট পৌঁছায় সকাল ৭টায়। ভাড়া ২৯৫ টাকা।
জিন্দাবাজারে হোটেল মুন লাইট (০৮২১-৭১৪৮৫০)। তালতলায় গুলশান সেন্টার (০৮২১-৭১০০১৮) ইত্যাদি।
** জৈন্তাপুর ও তামাবিলে বেশ কিছু উচ্চমানের রিসোর্ট আছে যেমনঃ এই জায়গা গুলোতে থাকতে পারলে তাহলে আর কষ্ট করে সিলেট শহরে ফিরতে হবে না। আরামসে একদিন বিলাস বহুল ভাবে কাটিয়ে ঘুরফিরে চলে আসা যাবে।
বিজিবি সম্মেলন কেন্দ্রেঃ সুন্দর, দামী আর জায়গা পাওয়া কষ্টকর। তাই বুকিং নিশ্চিত করে যাওয়া টা উত্তম। যোগাযোগঃ ০১৭৬৯৬১৩০৭০ (মোজাম্মেল)
নলজুড়ি উপজেলা সরকারি ডাকবাংলোঃ পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষে এইখানে থাকতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের জন্য প্রতিটি রুম ৫০০টাকা। আর সিভিলিয়ানদের জন্য ১৫০০টাকা। আমার থাকা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুন্দর ডাকবাংলো। এখান থেকে তামাবিলের বিখ্যাত তিন ঝর্ণাই দেখা যায়।
খাবার রেস্তোরাঃ
পানশি, পাঁচ ভাই জনপ্রিয় দুটি রেস্তোরা। এছাড়া আছে উন্ডাল সহ সব নামি-দামি খাবার দোকান। আমার ব্যক্তিগত পছন্দ ইশকনের নিরামিষ খাবার। ৬০ টাকায় পেট চুক্তি।
বিঃদ্রঃ
১. ঘুরতে যাওয়ার সময় চোখ কান বুজে দৌঁড়ানোটা বোকামী, তাই হাতে ভালো সময় নিয়ে ঘুরতে যাওয়া উচিৎ।
২. খুব ভোরে দিন শুরু করতে পারলে একদিনে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
৩. স্থানীয় মানুষদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরন করুন। ভাব-ভঙ্গি ভালো হলে বাংলাদেশ সাহায্য পাওয়ার সব চাইতে ভালো জায়গা।
৪. পরিবেশ নোংরা করবেন না। আপনার চিপস/বিস্কিট অ অন্যান্য পলি জাতীয় আবর্জনা সাথে করে নিয়ে আসুন।
৫. এই জায়গা গুলো ভালো মত কমম খরচে ঘুরার জন্য ৪-৫ জনের টীম সবচেয়ে আদর্শ।
৬. এখানে উল্লেখিত বিভিন্ন ভাড়া/দাম এর ব্যাপার টা মোটেও ফিক্সড কিছু না। পর্যটকদের চাপ বাড়লে এই দাম গুলো বেড়ে যায়। আবার ভিড় কম হলে কমে যায়। তাই এখানে সম্ভাব্য একটি সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন রেঞ্জ দেয়া হয়েছে। এইক্ষেত্রে সব সময় দামাদামি করে নেয়া টা বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার কাছে সব কিছুর দাম হাঁকিয়েই বলবে কিন্তু। জোর গলায় দামাদামি করে নিবেন।
[ ব্লগটিকে আরও এনরিচ করার ইচ্ছা আছে। ধীরে ধীরে আরও নতুন নতুন জায়গা যুক্ত হবে। আনিকা ও মুনিম কে সহযোগীতা করার জন্য ধন্যবাদ।]