Showing posts with label boga lake. Show all posts
Showing posts with label boga lake. Show all posts

Saturday, June 13, 2015

জীবন মানেই জী বাংলা

ইদানিং ফেসবুকে ঢুকলে মেজাজ খারাপ হয়। কেন খারাপ হয়? নিউজফিড ভরা বিছানাকান্দি, সাজেক, হামহাম, আর টপ লিস্টের নতুন সংযোজন ডিম পাহাড়ের ছবি (হালকা বদ হজমের সমস্যা আছে বস)। এত্ত সুন্দর দেশটাতে ঘুরার আর কোন জায়গা নাই?

আপনি বা আপনারা সবাই দল বেধে একটা জায়গায় যেতেই পারেন। সমস্যাটা কি? কুল বস বুঝিয়ে বলতেছি.....
সাধারনত বিয়েতে চার-পাঁচ দিনের একটা অনুষ্ঠান হয়। আপনার বাসার কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে, আপনার নিকট আত্মীয় স্বজন নিশ্চয় আপনার বাসাতেই নোঙর ফেলবে। তাদের যেতে যেতে বিয়ের পরে আরও সাতদিন। তখনকি আপনার বাসার স্বভাবিক অবস্থা বজায় থাকবে? আর দু-একজন তখন ঘাপটি মেড়ে আপনার বাসায় অতিথি হয়ে বসে থাকলে আপনার মুখের দিকে তাকানো যাবে? তাকে আপনার খুন করতেও ইচ্ছে হতে পারে। আমরা প্রায় সারা বছরই জায়গাগুলোকে বিয়ে বাড়ি বানিয়ে রাখছি। বুঝেন তাইলে আমরা প্রকৃতির কাছে বেড়াতে গেলে অতিথি হয়েই যাই। 

সবাই এক সাথে দল বেধে, বর যাত্রী সেজে, একটা জায়গাতেই গেলে জায়গাটার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
প্রমাণ হিসেবে রাতারগুলের কথাই ধরুন। মাইকে সিলাকি জাওয়ানা, মুন্নিকী বদনামী বাজিয়ে পিকনিক করে, ট্রাভেলার/টুরিস্টের অতিরিক্ত চাপে রাতারগুল এখন স্ট্রক করে প্যারালাইজড রোগীর মত অাসিইউ ভর্তি হয়ে আছে।

আমাদের দেশ আমরাই ঘুরে বেড়াবো। তবে দুইটা-তিনটা জায়গাতেই সবাই এক সাথে কেন? আপনার পরিচিত কেউ যখন বান্দরবান যাবে, আপনি একটু তেঁতুলিয়া ঘুরে আসেন। পরের বার কেউ সিলেট গেলে আপনি একটু সাতক্ষীরা যান। রাতারগুল, সাজেক, ডিম পাহাড়, হামহাম, বিছানাকান্দি, বগা লেকের মধ্যেই কেন আমরা সীমাবদ্ধ।

ঘুরতে বের হবার আগে দেখার মত চোখ দরকার। ঐ চোখটা থাকলে দেখবেন, এই ছোট্ট দেশটায় ঘুরে দেখার জায়গার শেষ নাই। কাধে ক্যামেরা নিয়ে সেলফি তুলে একদিনে হামহাম, লাউয়াছড়া, বিছনাকান্দি। দুই দিনে সাইকেলে ক্রস কান্ট্রি এসব হেডম গিরি কইরা, ছাগলামি দেখায়া লাভ নাই।

ঘুরতে বেড়িয়ে ঝরনার পাশে বসে যদি ঝরনার শব্দটাই না শুণবেন, ঝরনায় গা এলিয়ে শান্তিতে দুদন্ড দাড়িয়েই না থাকবেন, কারবাড়ির ঘরে দুই-এক রাত না কাটাবেন, গাধুলি-সূর্যাস্থ বেলায় পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখার সময়ই না থাকবে, তাইলে ঘুরতে বের হইয়া লাভ নাই বস জী-বাংলা দেখেন।

জানেন তো, জীবন মানেই জী বাংলা....

-Himu Central Jail


Saturday, April 4, 2015

বান্দরবনের ১১টি রুট প্ল্যান



আমি প্রথম বান্দরবন যাই ২০০৭ এ। তেমন কিছুই জানতাম না। Facebook ছিল না, ToB ও ছিল না। প্রথমবার এসে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক দেখে ওয়াওওয়াও করতে থাকি। এগুলো সবই মুলত শহরেরআশেপাশে। সেবার ওইগুলো দেখেই পেটভরা গল্প নিয়ে ঘরেফিরি।

২য় বার এসে কেক্রাডং “জয়” করে বিজয়ী বেশে ঘরে ফিরি, এরপর বেশ কয়েকবার বার বান্দরবন গেছি, অনেক কিছুই দেখেছি। তবে আরও অনেককিছু এখনো দেখার বাকি রয়ে গেছে। তবে বান্দরবন এর আসল ঐশ্বর্য দেখতে হলে আপনাকে আরও একটু ভিতরে ঢুকতেহবে। ২/৩ দিন পাহাড়ে হাঁটাহাঁটিকরতে হবে। আমি এখন সেই পথের কথা বলব।

প্রথম বার বান্দরবন ভ্রমনের Tour Tips

যারা বান্দরবান যেতে চান তাদের জন্য কিছু জরুরী ফোন নাম্বার-
-চান্দের গাড়ীঃ জিয়া ড্রাইভারঃ ০১৮১২৫৭২৬৯১ ( ৪/৫ হাজার টাকা লাগে সারাদিন )।
-হোটেল সাঙ্গুঃ ০১৫৫৬৫২৯৫৮৭ (৫০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতি রাত।দরাদরি করে নিবেন। হোটেলের মান খুব ভালো)।
-হোটেল নিলগিরিঃ ০১৫৫৮৪২১৩১৯ ( ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি রাত, হোটেলের মান মোটামোটি, ভাই ব্রাদার মিলে থাকতে পারবেন আর কি!)
-যদি ৫০-৬০ জন গ্রুপ হয়ে যান তাহলে খাবার এর ব্যপারে যোগাযোগ করতে পারেন রুপসি বাংলা রেস্তোরায় ; ০১৮৪৯৮৮১৫৪০ (খাবারের মান ভালো)

এছাড়া আমার আরো কিছু ট্রাভেল ব্লগ/লগ দেখতে পারেন-

এখানে পাবেন কেওক্রাডাং কিভাবে যাবেন, আসবেন, খাবেন, থাকবেন নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-সালাপ! সাথে থাকবে কিভাবে সাকা হফাং যাবেন সেই প্ল্যান। আশা করি ভালো লাগবে। 

আর এখানে পাবেন নাফাখুম-অমিয়াখুম-সাত ভাই খুম ভায়া তিন্দু-রেমাক্রি হয়ে কিভাবে ঢাকা আসবেন। এর মাঝে কিভাবে থাকবেন, খাবেন, যাবেন এই নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ারিং।  

চলে আসি এবার মূল পর্বে- 

বি.দ্র. এই ব্লগে কোন ছবি দিলাম না, কারন ছবি দিলে পড়ার উপর মনযোগ থাকবে না! 

ট্যুর প্লান-১

দিন-১-ঢাকা-বান্দরবান-রুমা-বগালেক
দিন-২-বগালেক-দার্জিলিংপাড়া-কেওক্রাডং-পাসিংপাড়া-জাদিপাইপাড়ার পাস দিয়ে-ক্যাপিটাল পিক - বাকলাই
দিন-৩-বাকলাই-সিমত্লাপিপাড়া-থানদুইপাড়া-নয়াচরণপাড়া
দিন-৪-নয়াচরণপাড়া-নেপিউপাড়া-সাকাহাফং-সাজাইপাড়া
দিন-৫-সাজাইপাড়া-সাতভাইখুম (ঝর্না)-আমিয়াখুম-নাইক্ষামুখ-সাজাইপাড়া
দিন-৬-সাজাইপাড়া-জিন্নাহপাড়া-নাফাখুম-রেমাক্রি
দিন-৭-রেমাক্রি-বারপাথর(বড়পাথর)-টিন্ডু-থানচি-বান্দরবান-ঢাকা ।

ট্যুর প্লান-২

দিন-১-ঢাকা-বান্দরবান-রুমা-বগালেক
দিন-২-বগালেক-দার্জিলিংপাড়া-কেওক্রাডং-পাসিংপাড়া-জাদিপাইপাড়ার পাস দিয়ে-ক্যাপিটাল পিক - বাকলাই
দিন-৩-বাকলাই-সিমত্লাপিপাড়া-থানদুইপাড়া-নয়াচরণপাড়া
দিন-৪-নয়াচরণপাড়া-নেপিউপাড়া-সাকাহাফং-নয়াচরনপাড়া
দিন-৫-নয়াচরনপাড়া-থানদুইপাড়া-সিমত্লাপিপাড়া-বোডিংপাড়া
দিন-৬-বোডিংপাড়া-থানচি-বান্দরবান-ঢাকা

ট্যুর প্লান-৩

দিন-১-ঢাকা-বান্দরবান-থানচি-বোডিংপাড়া
দিন-২-বোডিংপাড়া-তাজিনডং-সিমত্লাপিপাড়া-থানদুইপাড়া
দিন-৩-থানদুইপাড়া-নয়াচরণপাড়া-নেপিউপাড়া-সাকাহাফং-নয়াচরনপাড়া
দিন-৪-নয়াচরনপাড়া-থানদুইপাড়া-সিমত্লাপিপাড়া-বোডিংপাড়া
দিন-৫-বোডিংপাড়া-থানচি-বান্দরবান-ঢাকা

ট্যুর প্লান -৪

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -মংপ্রোপাড়া
দিন-২ মংপ্রোপাড়া- বড়তলী পাড়া- রাইক্ষাংপাড়া
দিন-৩ রাইক্ষাং ঝর্না-রুমানাপাড়া / সুংসাংপাড়া-
দিন-৪ সুংসাংপাড়া - জাদিপাই
দিন-৫ জাদিপাই- রুমা
দিন-৬ রুমা-রিজুক-বান্দরান-ঢাকা

ট্যুর প্লান -৫

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -বগালেক রাতে ট্রেকিং করে দার্জিলিং বা পাসিংপাড়া
দিন-২ দাজিলিংপাড়া/ পাসিংথেকে থেকে সুংসাং হযে রুমানাপাড়া
দিন-৩ রুমানাপাড়া থেকে রাইক্ষাং
দিন-৪ রাইক্ষাংঝর্না থেকে এনেংপাড়া
দিন-৫ এনেংপাড়া থেকে বগামুখপাড়া
দিন-৬ বগামুখপাড়া-রুমা-রিজুক-বান্দরান-ঢাকা

ট্যুর প্লান -৬

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -বগালেক রাতে ট্রেকিং করে দার্জিলিং
দিন-২ দাজিলিংপাড়া - সাইকতপাড়া
দিন-৩ সাইকতপাড়া থেকে রাইক্ষাং
দিন-৪ রাইক্ষাংঝর্না থেকে এনেংপাড়া
দিন-৫ এনেংপাড়া থেকে বগামুখপাড়া
দিন-৬ বগামুখপাড়া-রুমা-রিজুক-বান্দরান-ঢাকা

ট্যুর প্লান -৭

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -বগালেক রাতে ট্রেকিং করে দার্জিলিং
দিন-২ দাজিলিংপাড়া - সাইকতপাড়া
দিন-৩ সাইকতপাড়া থেকে রাইক্ষাং
দিন-৪ রাইক্ষাংঝর্না থেকে মংপ্রোপাড়া
দিন-৫ মংপ্রোপাড়া- রুমা
দিন-৬ রুমা-রিজুক-বান্দরান-ঢাকা

ট্যুর প্লান -৮

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - থানচি- হেডম্যানপাড়া
দিন-২ হেডম্যান - তাজিংডং -বাকলাই-
দিন-৩ বাকলাই- জাদিপাই
দিন-৪ জাদিপাই-বগালেক
দিন-৫ বগালেক-রুমা -বান্দরবান ঢাকা

ট্যুর প্লান -৯

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -বগালেক
দিন-২ বগালেক-দাজিলিং-কেওক্রাডং-বাকলাই
দিন-৩ বাকলাই-তাজিনডং-হেডম্যানপাড়া
দিন-৪ হেডম্যান-থানচি-টিন্ডু
দিন-৫ টিন্ডু-থানচি-বান্দরবান-ঢাকা

ট্যুর প্লান - ১০

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -বগালেক
দিন-২ বগালেক-দাজিলিং-কেওক্রাডং-বাকলাই
দিন-৩ বাকলাই-তাজিনডং-থানদুইপাড়া-নয়াচরন
দিন-৪ নয়াচরন-নেপিউপাড়া-সাকাহাফং-সাজাইপাড়া
দিন-৫ সাজাইপাড়া-আমিয়াখুম-সাতভাইখুম-সাজাইপাড়া
দিন-৬ সাজাইপাড়া-জিন্নাপাড়া-নাফাখুম-রেমাক্রি
দিন-৭ রেমাক্রি-বারপাথর-টিন্ডু-থানচি-বান্দরবান-ঢাকা

ট্যুর প্লান - ১১

রাতের বাসে ঢাকা বান্দরবান
দিন-১ বান্দরবান - রুমা -বগালেক
দিন-২ বগালেক-দাজিলিং-কেওক্রাডং-সুংসাংপাড়া
দিন-৩ সুংসাংপাড়া-বাকলাই
দিন-৪ বাকলাই-তাজিনডং-থানদুইপাড়া-নয়াচরন
দিন-৫ নয়াচরন-নেপিউপাড়া-সাকাহাফং-সাজাইপাড়া
দিন-৬ সাজাইপাড়া-আমিয়াখুম-সাতভাইখুম-সাজাইপাড়া দিন-৭ সাজাইপাড়া-জিন্নাপাড়া-নাফাখুম-রেমাক্রি
দিন-৮ রেমাক্রি-বারপাথর-টিন্ডু-থানচি-বান্দরবান-ঢাকা


Post Credit:  Master Travelers

বিস্কুট/ চিপস/ চানাচুর ইত্যাদির প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতল, অপচনশিল বস্তু ফেলবেন না যেখানে সেখানে। যেসব পাড়ায় ডাস্টবিন আছে সেখানে ফেলুন। না পারলেপুড়িয়ে ফেলুন।



Monday, December 15, 2014

প্রথম বার বান্দরবন ভ্রমনের Tour Tips


আমি প্রথম বান্দরবন যাই ২০০৭ এ। তেমন কিছুই জানতাম না। Facebook ছিল না, ToB ও ছিল না। প্রথমবার এসে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক দেখে ওয়াওওয়াও করতে থাকি। এগুলো সবই মুলত শহরেরআশেপাশে। সেবার ওইগুলো দেখেই পেটভরা গল্প নিয়ে ঘরেফিরি।



২য় বার এসে কেক্রাডং “জয়” করে বিজয়ী বেশে ঘরে ফিরি
এরপর বেশ কয়েকবার বার বান্দরবন গেছি, অনেক কিছুই দেখেছি। তবে আরও অনেককিছু এখনো দেখার বাকি রয়ে গেছে।

শুধু মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল ইত্যাদি জায়গা দেখতে চাইলে পরিকল্পনা করবেন এভাবে- ১ম দিন সকালে পৌঁছে ফ্রেশহয়ে নাশ্তা করে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির এসব দেখতেপারেন। ২য় দিন একটা জীপ ভাড়া (টাকা ২০০০/৩০০০) করে শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ঘুরে আসেন।

তবে বান্দরবন এর আসল ঐশ্বর্য দেখতে হলে আপনাকে আরও একটু ভিতরে ঢুকতেহবে। ২/৩ দিন পাহাড়ে হাঁটাহাঁটিকরতে হবে। আমি এখন সেই পথের কথা বলব।

দিন ১ –বান্দরবনশহরে পৌঁছে নাশ্তা করে একটা জীপ নিতে হবে রুমা বাজার পর্যন্ত। টাকা ২০০০/২৫০০ লাগবে। পৌছতে ঘন্টা দেড় লাগবে। সেখানে পৌঁছে গাইড নিতেহবে। গাইডের কয়েকটি সমিতি আছে। যেকোনো একটা থেকে একজনগাইড নিতে হবে। কেওক্রাডং পর্যন্ত গেলে দৈনিক ৪০০ করে মোট ১২০০টাকা লাগবে। জাদিপাই গেলে প্যাকেজ ২০০০/২৫০০ টাকার মত। তাদের দেয়া ফর্ম পুরনকরে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে সেখানে নাম এন্ট্রি করতে হবে। তারপর দ্রুত গাইডের সাথেগিয়ে জীপ ভাড়া করতে হবে বগা লেক যাওয়ার জন্য। ভাড়া ২০০০ টাকা। তবে বর্ষাকালে গাড়ি বগা লেকপর্যন্ত যায় না।

বগা লেকে ওঠার শেষ রাস্তাটুকু পার হতে অনেক কষ্ট হবে। খাড়া পাহাড়ে উঠতে হবে। আসলে এই জায়গাটুকু পারহতেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় সবার। কারন, সারারাত জার্নি করে, হইচই করে সবাই খুব ক্লান্ত থাকে। একারনেই কিছু মানুষ বগাউঠেই সিদ্ধান্ত নেয় আর আগাবে না। এটা ভুল সিদ্ধান্ত। আমি অনেক বাঘা বাঘা ট্রেকারদেরজিজ্ঞাসা করে দেখছি। ট্রিপের প্রথম দিন বগায় উঠতে সবারই অনেক কষ্ট হয়। ২য় দিন থেকে আর এত কষ্টহবে না।

বগায় পৌঁছে সিয়াম দিদি/ লারাম বা অন্য কারও কটেজেউঠতে হবে। কটেজ আগে থেকে ঠিক করে রাখা ভালো। এরপর লেকে গোছল করে বাকি দিনরেস্ট। এখন যেহেতু রুমা যেতে নৌকা লাগে না সেহেতু বেলা ১১/১২ টার মধ্যে বগায়পৌঁছে অনেকেই আরও সামনে এগিয়ে যায়। তবে যারা প্রথমবার যাচ্ছে, তাদের বগায় ১ম রাত থাকাউচিৎ। স্থানটা অনেক সুন্দর। (এখানে সেনেটারি টয়লেটআছে)।

দিন ২ (আয়েশি ভ্রমন) – ভোরে উঠে খিচুরি+ ডিম ভাজি খেয়ে ভোর ৫.৩০ টার মধ্যেই রওনা হতেহবে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। পথে চিংড়ি ঝর্না দেখতে হবে। ঝর্নার উপর পর্যন্ত গিয়েনা দেখলে কিন্তু বিরাট মিস। আগে পরে আরও কিছু ঝর্না পড়বে। মোট ৩/৩.৫ ঘণ্টা হাটার পরে পাবেন কেওক্রাডং। বাংলাদেশের “সর্বচ্চ” (সরকারি তথ্য মতে) পাহাড়।
লালার হোটেলে দুপুরেরে খাবার খেয়ে আবার ফিরতি পথে বগা।

অথবা দিন ২ (একটুখানিএডভেঞ্চার ভ্রমন) – ভোরে উঠে খিচুরি+ ডিমভাজি খেয়ে ভোর ৫.৩০ টার মধ্যেই রওনা হতে হবে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। পথে চিংড়ি ঝর্না দেখতেহবে। ঝর্নার উপর পর্যন্ত গিয়েনা দেখলে কিন্তু বিরাট মিস। আগে পরে আরও কিছু ঝর্না পড়বে। কোন ঝর্নাতেই ১০/১৫ মিনিটেরবেশি সময় দেয়া যাবে না। মোট ৩/৩.৫ ঘণ্টা পরে পাবে কেওক্রাডং। বাংলাদেশের “সর্বচ্চ” পাহাড়। চুড়ায় ওঠার আগেই লালার হোটেলে দুপুরের খাবারঅর্ডার ও রাতে থাকার বুকিং দিয়ে দিবেন।
তারপরে ১০ টার ভিতরে দুপুরের খাবার খেয়ে পাসিং পাড়া হয়ে জাদিপাইপাড়া হয়ে জাদিপাই ঝর্না। কেওক্রাডং থেকে জাদিপাই যেতে কোন পাহাড়ে ওঠানাই, শুধু নামা আর নামা। ঘণ্টা ২/২.৩০ লাগবে পৌছাতে। শেষ ২০০ ফিট সাবধানে নামতেহবে। ৫০ ফিট পাটের মোটা দড়ি/কাছিসাথে করে নিয়ে গেলে এখানটায় নামতে সুবিধা হবে। লোকে বলে জাদিপাইনাকি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্না। কথাটির সাথে আমিও দ্বিমত নই। দেখলেআপনিও বোধ করি দ্বিমত করবেন না।
এখানে ঘণ্টা খানেক থেকে আবার ফিরতে হবে। আমরা ঐদিনই বগায় ফিরেএসেছিলাম। তবে সেটা বেশি কষ্টকর হতে পারে। আপনারা কেওক্রাডং এসেলালার হোটেলে ঐ রাত থাকবেন। (এখানে সেনেটারি টয়লেট আছে)।

দিন ৩ –অবশ্যইসূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে উঠবেন। কেওক্রাডং এর চুড়া থেকে সূর্যোদয় অনেক বেশি সুন্দর। নাশ্তা করে ফিরবেন বগা। সেখান থেকে জীপ স্ট্যান্ডেগিয়ে আগেই ফোনে ঠিক করে রাখা জীপে করে রুমায় ফিরবেন।

১২ টার মধ্যে রুমায় পৌঁছে দুপুরের খাবার খেয়ে ট্রলার নিবেন রিঝুকফলস পর্যন্ত। ৮০০/১০০০ টাকা নিবে। ৩০/৪০ মিনিট লাগে যেতে। রিঝুক দেখে রুমা ফিরেআবার জীপে করে বান্দরবন।

বগাথেকে ঝিরিপথে হেঁটেও রুমা ফেরা যায়। ৬/৭ ঘণ্টা লাগে। পথটা অসাধারন সুন্দর।
রুমা থেকে বান্দরবন ট্রলারে করেও ফেরা যায়। ৩/৪ ঘণ্টা লাগবে। ৪০০০/৪৫০০ টাকা লাগতেপারে। ফিরতি পথে ৪০/৫০ কিমিসাঙ্গু দেখতে অনেক ভালো লাগবে।

এই পরিকল্পনায় ৩ দিন ঘুরে আসলে আর শৈলপ্রপাত, নীলগিরি, চিম্বুক, মেঘলা ইত্যাদি জায়গায়যাওয়া অর্থহীন। কেওক্রাডং, জাদিপাইর কাছে এগুলোকেশিশুপারক মনে হবে।

এই ৩ দিনের টুরে আরও কিছু মশলা দেয়া যায়, তবে প্রথমবার হিসেবে সেটাবাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।

অবশ্য পালনীয় কর্তব্য –

১) ভালো, মজবুত ব্যকপ্যাক নিবেন। হাতব্যাগ/ লাগেজ এসব চলবেনা, চলবে না¸ চলবে না।
২) পুরো টুরে নিজের ব্যাগ নিজের কাধে রাখতে হবে। পাহাড়ে ওঠার সময় মেকাপবক্স/ পারফিউম ইত্যাদি ফেলে দিতে হবে ওজন কমাতে। অতএব, কাপড় মাত্র ২ সেট নিবেন। অন্যান্য জিনিস যাই নিবেনভেবে নিবেন। অযথা ব্যাগ ভারী করলে পরে কাঁদতে হবে।
৩) ভালো, মজবুত স্যান্ডেল নিবেন। মাটিতে ভালো গ্রীপ করে, পিছলে যায় না এমন স্যান্ডেলনিবেন।
৪) সঙ্গে সবসময় আধা/এক লিটার পানি, সামান্য কিছু হাল্কা খাবাররাখবেন।
৫) কলার পটাশিয়াম পেশির জন্য উপকারী। পাহাড়ে উঠলে পেশির উপরঅনেক চাপ পরে। অতএব, বান্দরবন গেলে বান্দরের মত কলা খাবেন।
৬) বেশি স্যালাইন খেলে রক্তচাপ বাড়ে, ঘাম বাড়ে ফলে আরও বেশিপানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অতএব, সারাদিন চলার পথে বেশি স্যালাইন খাবেন না। পানি খাবেন। অনেক তৃষ্ণা পেলেও একবারেবেশি পানি খাবেন না। হটাত পেট ভারী হয়ে গেলে হাঁটতে পারবেন না।
৭) মশা প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই Ododmos লোশন নিবেন।
৮) হাটার সময় ফুটবলারদের মত আংলেট, নী-ক্যাপ পড়বেন।
৯) টর্চ নিবেন। কম কম জ্বালাবেন। চার্জ শেষ হলে চার্জ দেয়াঝামেলা।
১০) প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। অবশ্যই, অবশ্যই। যত দেরিতে রওনা হবেন, রোদে তত বেশি কষ্ট হবে। অলস কেউ থাকলে তাঁকে কক্সবাজারপাঠিয়ে দিন। বান্দরবন তার জন্য না।
১১) জোঁকের জন্য সবার সঙ্গে সামান্য লবন রাখবেন। জোঁক লাগলেই অযথা চেঁচামেচিনা করে আপনার পাশে জনকে লবন দিতে বলুন। জোঁক মরে যাবে।
১২) দল ১০ জনের হলে ৫ জনের ২ টা দলে হাঁটবেন। কেও যেন দলছাড়া না হয়েযায়।
১৩) ক্যাপ পড়বেন সবাই।
১৪) ছাতা/ রেইনকোট নিবেন।
১৫) ব্যাকপ্যাক কাভার নিবেন সবাই। বা সকল জিনিস বড় পলিথিনেভরে তারপর ব্যাকপ্যাকে ভরবেন।
১৬) সবাই ১টা করে পিঠে ঝুলানর মত দড়ি দেয়া কাপড়েরএক্সট্রা  ব্যাগ নিবেন ।
১৭) জ্বর, পেই কিলার,আমাশা, গ্যাস্ট্রিক, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেটইত্যাদি নিবেন।
  
 এবং দয়া করে

১৮) বিস্কুট/ চিপস/ চানাচুর ইত্যাদির প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতল, অপচনশিল বস্তু ফেলবেন না যেখানে সেখানে। যেসব পাড়ায়ডাস্টবিন আছে সেখানে ফেলুন। না পারলেপুড়িয়ে ফেলুন।

________________________________________________________________

Info from "Proactive Bappy"

যারা বান্দরবান যেতে চান তাদের জন্য কিছু জরুরী ফোন নাম্বার

চান্দের গাড়ীঃ জিয়া ড্রাইভারঃ ০১৮১২৫৭২৬৯১ ( ৪/৫ হাজার টাকা লাগে সারাদিন )।
হোটেল সাঙ্গুঃ ০১৫৫৬৫২৯৫৮৭ (৫০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতি রাত।দরাদরি করে নিবেন। হোটেলের মান খুব ভালো ) ।
হোটেল নিলগিরিঃ ০১৫৫৮৪২১৩১৯ ( ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি রাত, হোটেলের মান মোটামোটি ,ভাই ব্রাদার মিলে থাকতে পারবেন আর কি!)
যদি ৫০-৬০ জন গ্রুপ হয়ে যান তাহলে খাবার এর ব্যপারে যোগাযোগ করতে পারেন রুপসি বাংলা রেস্তোরায় ; ০১৮৪৯৮৮১৫৪০ (খাবারের মান ভালো)

বান্দরবন সিটিতে কোথায় থাকবেন তার হোটেল লিস্টি দিয়ে দিলাম কিছু-
হোটেল ফোর স্টার : (বান্দরবান সদর)
সিঙ্গেল ৩০০ টাকা, ডাবল- ৬০০, ট্রিপল ৯০০ টাকা, এসি ডাবল- ১২০০ টাকা।, এসি ট্রিপল ১৫০০ টাকা।
Phone: 0361-63566, 0361-62466, 01813278731, 01553421089

হোটেল থ্রী স্টার : এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ী এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়া হয়। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। প্রতি নন এসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন: থ্রী স্টার এবং ফোর ষ্টার হোটেল মালিক একজন, মানিক চৌধুরী-০১৫৫৩৪২১০৮৯।

হোটেল প্লাজা বান্দরবান: (সদর) Hotel Plaza Bandarban
Single 400tk, Double 850tk, AC 1200tk.
Booking Phone: 0361-63252

হোটেল গ্রিন হিলঃ (বান্দরবান সদর) Hotel Green Hill
Single 200tk, Double 350tk, Triple 500tk
Phone: 0361-62514, Cell: 01820400877

হোটেল হিল বার্ড (বান্দরবান সদর) Hotel Hill Bird
Single 250tk, Double 400tk, Triple 550tk
Phone: 0361-62441, Cell: 01823346382

হোটেল পূরবী (বান্দরবান সদর) Hotel Purobi
AC Deluxe 1400tk, AC Room 1200tk, General Single 259tk,
General Double 460tk, General Triple 600tk, General Couple 400tk
Phone: 0361-62531, Cell: 0155 6742434

Wednesday, January 30, 2013

ঝর্ণার নাম চিংড়ি ঝর্ণা

চট্টগ্রাম থেকে ৯২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে পাহাড়ী শহর বান্দরবান। বান্দরবান জেলা হচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এর আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের অবারিত সবুজের সমারোহ এবং মেঘে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে যার আছে সে বাংলাদেশের পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান ঘুরে আসতে পারেন।
প্রকৃতির পাহাড়-ঝরণা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী আর রহস্যময় পাহাড় ঘেরা দীঘির অপার সৌন্দর্যের টানে বন্ধুরা মিলে এ বছরের শুরুতে বেড়াতে গিয়েছিলাম বান্দরবানের বগালেক, কেওক্রাডাং আর জাদিপাই ঝরণায়। মাঝে পেয়ে যাই এই চিংড়ি ঝরণা! তবে এখানে আজ চিংড়ি ঝরণার কথাই বলব, পরের পোস্ট-এ জাদিপাই/যাদিপাই নিয়ে লিখব।
চিংড়ি ঝরণাটা বান্দারবানের বগালেকের পরেই। আবার অনেকে কেওক্রাডাং থেকে বগালেকে আসার পথে দেখে আসতে পারেন।
সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২১৬ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট বগালেক। কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে এই লেকের অবস্থান। এ পানি দেখতে প্রায় নীল রঙের। এ লেকের পাশে বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র উপজাতীয় বম ও খুমী সম্প্রদায়। অদ্ভুদ সুন্দর এই নীল রঙ্গের লেকের সঠিক গভীরতা বের করা যায়নি। স্থানীয়ভাবে দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ ফুট বলা হলেও সোনার মেশিনে ১৫১ ফুট পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। তবে বগালেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে লেকের পানি প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসে ঘোলাটে হয়ে যায়।
বগালেক

বগালেক

বগালেক

এছাড়া, পথের মাঝে রুমা বাজারের আগে একবার ট্রাভেলার ফরম ফিল আপ করাতে হবে, তার আগে বান্দরবন টাউন থেকে বের হয়েই আরেক দফা ট্রাভেলার ফরম ফিল আপ। আর্মিদের সাথে অযথা কথা না বাড়িয়ে টাইম লস করার কোন প্রয়োজন দেখি না আমি মাথায় রাখতে হবে বিকাল ৪ টার মাঝেই রুমা যেতে হবে নইলে সেদিন আর বগালেকে যেতে দিবে না আর্মি। আর বগা সেদিন দেখতে না পারা মানে আপনি চিংড়ির ফলস মিস করছেন।
আমরা বিডি রেঞ্জারস এর ২৫ জন মেম্বার বগালেক হয়ে কেও-এর পথে হাটছিলাম এর মাঝেই পড়ে চিংড়ি, আমার আইডিয়াই ছিল না পথে পথে এতগুলো ঝরণা দেখতে পাবো। বগা লেকের কথা আর কি বলবো? বগা লেক যে উঠতে পারবে সেই কেওক্রাডাং জয় করতে পারবে, ৬০-৭৫ ডিগ্রিতে পাহাড় বাইতে হবে হেটে। এটাই অনেকের জন্য এক্সাম ঢাকা আবার ফেরত আসবে কিনা!! বাকি পথের কথা না হয় নাই বললাম, নিজের চোখে দেখে আসার অনুরোধ করলাম।
আমরা রাতে ট্রেক্কিং করেছিলাম বলে রাতের বেলা চিংড়ি ফলস দেখা হয়নি সেদিন, গর্জন শুনেই অনেক দূর থেকে বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা আছে সামনে, সরূ পাহাড়ী রাস্তা পার হয়ে সেইদিনের মত চিংড়িকে বিদায় দিয়ে কেও এর পথে রওনা হচ্ছিলাম। মনে মনে ইচ্ছে হচ্ছিল আসার পথে দেখতেই হবে। হাতে পাহাড়ি রাস্তা বাইবার লাঠি, পিঠে ১৫ কেজির ব্যাগ, আরেক হাতে টর্চ রাতের বেলার সে অন্যরকমের জার্নি, পরিষ্কার কালো আকাশে হাজার হাজার তারা, তারাগুলো গুনে ফেলা যায়। হটাত খেয়াল হল আমি তো সাগর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০-২০০০ ফিট উপরে আকাশের মেঘ আমার নিচে ফেলে এসেছি। অনেক আপনজনকে মনে পড়ছিল কিন্তু মোবাইলটা বের করে দেখি আহা নেটওয়ার্ক তো বগালেক রেখে এসেছি, তাই ঘড়ি দেখে সামনে পাহাড় বাইছিলাম, দুই দিকে গাছপালা, কিছুদূরে গেলে আবার এক পাশে খাঁদ অন্যপাশে ঝোপঝাড় আর সামনে দেখি খালি উপরে উঠার পথ, মাঝে মাঝে মেঘের দেখা পাই, আবার মনে হচ্ছে কি যেন ঠান্ডায় গা ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আসলে সেটা মেঘ পরে বুঝেছিলাম। আমার সঠিক মনে আছে তখন ঢাকায় ৭/৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শীতকাল চলছে, আর আমি পাহাড়ে উঠছি দরদর করে ঘামছি আর মেঘের সাথে লুকোচুরি। রাতের বেলার ট্রেক্কিং এর মজা অন্যরকম সেটা এবার বুঝলাম। ২৫ জনের থেকে আলাদা হয়ে সবার শেষের দিকে রইলাম আমরা কয়েক জন, ৫ মিনিট হাটি তো ১০ মিনিট বিশ্রাম নেই, পানি আর গ্লুকোজ খেতে খেতে পাড়ি দিচ্ছিলাম পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তায় ফয়সালের সাথে অনেক কথা হচ্ছিল ও নতুন বিয়ে করেছে তার বউ নিয়ে অনেক আলাপ সালাপ হচ্ছিল আর বারবার গালাগাল দিচ্ছিল “কেন যে আমারে তোরা এখানে আনলি শালারা” নইলে সে কি করত ব্লা ব্লা ব্লা। পথের মাঝে অনেক ফ্রেন্ডদের সাথে অনেক সুখের মথা মজার কথা শেয়ার হচ্ছিল অনেকদিন পর সব ফ্রেন্ডরা একসাথে যাচ্ছি।
চিংড়ি নিয়ে কিছু বলা দরকার এবার-
চিংড়ি ঝরণা
Lattitude: N21 58.450

Longitude: E92 29.209
বান্দরবান মানেই পাহাড়ের দেশ, বান্দরবান মানেই সবুজের দেশ, বান্দরবান মানেই ঝর্ণার দেশ। আর ঝর্ণা শব্দটাই কেমন যেন রিনিঝিনি ছন্দময় আনন্দময় আবহ জাগায় শরীর ও মনে। ইচ্ছে হয় ওর পানির সৌন্দর্য্য আর শীতলতায় ধুয়ে ফেলি জীবনের সব কালিমা, গাইডকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছিলাম এখানে নাকি এক সময় চিংড়ি মাছ পাওয়া যেতো। কিন্তু ঝর্ণার পানিতে চিংড়ি মাছ ? এটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। পরে আমাকে গাইড বলে চিংড়ি আর থাকবে কিভাবে পাহাড়ীরা সব “খাই-দাই” সাবাড় করছে সেও ৭/৮ বছর আগেই। বগালেক থেকে কেওকারাডাং এর পথে ঘন্টাখানেকের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেই এই চমৎকার ঝর্ণাটা পাবেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে যেটুকু ঝর্ণা দেখা যায় এটুকুই কিন্তু চিংড়ি ঝর্ণা নয়। আসল টুকু দেখতে হলে আপনাকে বিশাল বিশাল পিচ্ছিল পাথরগুলো পেরিয়ে আর একটু ভেতরে ঢুকে ডান দিকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরতে হবে । দেখবেন অসাধারণ একটি ঝর্ণা, যেন বাশ বাগানের মাথার অনেক উপর থেকে একেবেঁকে নেমে আসছে চমৎকার একটা স্রোতধারা ।
এই দিকেই চিংড়ি ঝরণা

এই দিকেই চিংড়ি ঝরণা

তবে শত সৌন্দর্যের মাঝেও আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি এটা একটা বিপদজনক ঝর্ণা। কারণ এর বিশালাকার পিচ্ছিল পাথরগুলো যেকোন অসতর্ক মূহুর্তে ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ ।
তানভির ভাই

শান্ত ভাই

মেহেদী ভাই

আসার পথে আমি এসে দেখি সবাই ফটো সেশন করছে, বড় বড় পাথরগুলো মাড়িয়ে চিংড়িটা দেখে আসলাম। পথে কয়েক বার পিছলে পড়ে যাচ্ছিলাম, আমার পায়ের বুট কাজ করছিলো না। 
এই দিকেই চিংড়ি ঝরণা

চিংড়ি ঝরণার ঝিরি

চিংড়ি ঝরণার ঝিরি

চিংড়ি ঝরণার ঝিরি

কয়েক বার হোম সিকে পড়েছিলাম, আব্বা আম্মাকে মনে পড়ছিল- ঢাকা আবার যেতে পারবো কিনা চিন্তা করতে করতেই হটাত কেউ হয়ত পাশে এসে গল্প করছিল, আবার কতক্ষন গালাগালি করলাম কেন যে আইলাম এই সব নিয়া আবার মনে মনে বলছিলাম তাজিংডং যাই না শালার ভালোই হইছে একই জিনিষ আর পথের মাঝে বারবার সমতল যায়গা খুজছিলাম একটু বিশ্রাম নিবো বলে।
চিংড়ি

কিভাবে যাবেন বান্দরবন
ঢাকা থেকে বান্দারবান সরাসরি বাসে যাওয়া যাবে- হানিফ, শ্যামলি, এস. আলম
চট্রগ্রাম থেকে যেতে চাইলে বদ্দারহাট টারমিনাল থেকে পুরবী, পুরবানীতে যেতে পারেন।

ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। ঢাকা থেকে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর সেখান থেকে পূরবী বা পূবার্নী বাসযোগ সরাসরি বান্দরবান যাওয়া যায়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনসমূহ:

-মহানগর প্রভাতী
-তূর্ণা নিশীথা

ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর চট্টগ্রাম থেকে সোজা বান্দরবান; অথবা ডাইরেক্ট বান্দরবান যাওয়া যায়।
রুটঃ
১. বান্দারবান-চান্দের গাড়িতে/৪ হুইল জিপে করে রুমা বাজার আসতে হবে-নাম এন্ট্রি করে আবার রুমা থেকে বগালেকের ঢালে নামাই দিবে, মনে রাখা ভাল রুমা বাজার থেকে বিকাল ৪টার আগেই নাম এন্ট্রি করাতে হবে আর্মি ক্যাম্প-এ। আর্মিদের কাছে রুমা বাজারে আর বগালেকে নিজের নাম এন্ট্রি, বাপের নাম, মোবাইল নাম্বার, ঢাকার ঠিকানা ফরমে এন্ট্রি করতে টাইম লাগে, যদি ঢাকা থেকেই সেটা পূরন করে নিয়ে যান তাহলে টাইম বেচে যাবে। নিচে স্যাম্পল দিলাম, কাজে লাগতে পারে। ফরমটা কেন লাগবে সেটা তো আগেই বলেছি মরি গেলে লাশটা যেন জায়গামত যায় তাই।

২. বগালেকের ১১৭৬ ফুট উঠার পর আবারও নাম এন্ট্রি করাতে হবে আর্মি ক্যাম্প-এ, এবার খাওয়া দাওয়া শেষে আবার ট্রেক্কিং করতে হবে, আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা হাটলেই এই চিংড়ি ঝরণা পাওয়া যাবে।
কই থাকবেনঃ
১. বগালেকে থাকতে পারেন-বগালেকে থাকলে রাতের বেলার শিরাম মজা পাইবেন। যারা কেও যাবেন তারা সেইদিনই চাইলে কেও চলে যেতে পারেন, চিংড়ি থেকে কেও যেতে ২/৩ ঘন্টা লাগবে।
২. রুমা বাজার ফিরে যেতে পারেন যদি হাতে সময় থাকে, রুমায় এসি হোটেল আছে।

রাত্রি যাপনের জন্য বগালেকে জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি রেষ্টহাউস নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বম উপজাতী সম্প্রসাদায় কিছু ঘর ভাড়ায় দিয়ে থাকে । বগালেকের পাড়েই বসবাসরত বম সম্প্রদায় পর্যটকদের জন্য রান্না-বান্নার ব্যবস্থা করে থাকে । রুমা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ক্রয় করে নেওয়াই শ্রেয়। উল্লেখ্য যে, নিরাপত্তার জন্য রুমা ও বগালেক সেনা ক্যাম্পে পর্যটকদের রিপোর্টে করতে হয়। স্থানীয় গাইড ছাড়া পায়ে হেটে রুমা থেকে অন্য কোন পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া উচিত নয়।
কি খাবেনঃ
রুমা বাজার থেকে ডাল ভাত সবই পাবেন, বগালেকে গেলেও ডাল ভাত পাবেন, কিন্তু একটু আলাদা পাহাড়ী টেস্ট পাইবেন।
বান্দরবন সিটিতে কোথায় থাকবেন তার হোটেল লিস্টি দিয়ে দিলাম কিছু-
হোটেল ফোর স্টার : (বান্দরবান সদর)
সিঙ্গেল ৩০০ টাকা, ডাবল- ৬০০, ট্রিপল ৯০০ টাকা, এসি ডাবল- ১২০০ টাকা।, এসি ট্রিপল ১৫০০ টাকা।
Phone: 0361-63566, 0361-62466, 01813278731, 01553421089

হোটেল থ্রী স্টার : এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ী এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়া হয়। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। প্রতি নন এসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন: থ্রী স্টার এবং ফোর ষ্টার হোটেল মালিক একজন, মানিক চৌধুরী-০১৫৫৩৪২১০৮৯।
হোটেল প্লাজা বান্দরবান: (সদর) Hotel Plaza Bandarban
Single 400tk, Double 850tk, AC 1200tk.
Booking Phone: 0361-63252

হোটেল গ্রিন হিলঃ (বান্দরবান সদর) Hotel Green Hill
Single 200tk, Double 350tk, Triple 500tk
Phone: 0361-62514, Cell: 01820400877

হোটেল হিল বার্ড (বান্দরবান সদর) Hotel Hill Bird
Single 250tk, Double 400tk, Triple 550tk
Phone: 0361-62441, Cell: 01823346382

হোটেল পূরবী (বান্দরবান সদর) Hotel Purobi
AC Deluxe 1400tk, AC Room 1200tk, General Single 259tk,
General Double 460tk, General Triple 600tk, General Couple 400tk
Phone: 0361-62531, Cell: 0155 6742434